জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

ডাগআউটে স্মৃতি, মাঠে কঠিন দ্বন্দ্ব

চ্যাম্পিয়নস লিগের মঞ্চে বেনফিকা ও রিয়াল মাদ্রিদের মুখোমুখি লড়াই মানেই উত্তেজনা। তবে আজ লিসবনের এই ম্যাচে আলো কেবল মাঠের খেলোয়াড়দের ওপর নয়, সমানভাবে পড়বে ডাগআউটেও। কারণ, দুই দলের কোচের সম্পর্ক সাধারণ প্রতিদ্বন্দ্বীর নয়—এখানে একজন যেন আরেকজনের কাছে পিতৃতুল্য, আর অন্যজন নিজেকে ভাবেন তাঁরই ‘ফুটবল সন্তান’। বেনফিকার কোচ জোসে মরিনিও এবং রিয়াল মাদ্রিদের নতুন প্রধান কোচ আলভারো আরবেলোয়ার সম্পর্ক ফুটবল দুনিয়ায় অনন্য।

২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদের কোচ ছিলেন মরিনিও। এই সময়টা ক্লাবের ইতিহাসে যেমন সাফল্যের, তেমনি বিতর্কেরও। ড্রেসিংরুম রাজনীতি, তারকাদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব, সংবাদ সম্মেলনে তীক্ষ্ণ মন্তব্য—সব মিলিয়ে মরিনিও যুগ ছিল ঝাঁঝালো। কিন্তু এই ঝাঁঝের মধ্যেই এক নাম ছিল অবিচল: আলভারো আরবেলোয়া। তারকা না হয়েও তিনি ছিলেন মরিনিওর সবচেয়ে বিশ্বস্ত সৈনিকদের একজন।

মরিনিওর দর্শন—যাকে অনেকেই ‘মরিনিসমো’ বলেন—আরবেলোয়ার চিন্তাভাবনায় গভীর ছাপ ফেলেছিল। ভয় না পাওয়া, সংঘাত এড়িয়ে না যাওয়া, পরিচয় নিয়ে গর্ব করা—এই মানসিকতাই তিনি বারবার তুলে ধরেছেন। মরিনিও নিজেও একাধিকবার বলেছেন, আরবেলোয়া তাঁর কাছে শুধু খেলোয়াড় নন, একজন বন্ধু ও আদর্শ পেশাদার মানুষ।

মরিনিও যুগে রিয়াল মাদ্রিদ: সংক্ষিপ্ত চিত্র

মৌসুমপ্রধান সাফল্যউল্লেখযোগ্য দিক
২০১০–১১কোপা দেল রে জয়বার্সেলোনার বিপক্ষে এল ক্লাসিকো ফাইনাল জয়
২০১১–১২লা লিগা শিরোপা১০০ পয়েন্ট ও ১২১ গোলের রেকর্ড
২০১২–১৩ট্রফিহীনড্রেসিংরুম দ্বন্দ্ব চরমে

এই সময় মরিনিওর মূল লক্ষ্য ছিল পেপ গার্দিওলার দুর্দান্ত বার্সেলোনাকে টপকানো। শুরুতে ব্যর্থ হলেও ধীরে ধীরে তাঁর রিয়াল শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সক্ষম হয়। তবে কঠোর শাসন ও প্রকাশ্য সমালোচনার কারণে ক্যাসিয়াস, রামোসসহ সিনিয়রদের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হয়। তবু আরবেলোয়া শেষ পর্যন্ত মরিনিওর পাশেই ছিলেন।

২০১৭ সালে খেলোয়াড়ি জীবন শেষে আরবেলোয়া কোচিং ও বিশ্লেষণের পথে হাঁটেন। রিয়াল মাদ্রিদের একাডেমিতে পাঁচ বছর কাজ করে তিনি মূল দলের দায়িত্ব পান। কোচ হিসেবে তিনি মরিনিওর কাছ থেকে পাওয়া মানসিক দৃঢ়তা রাখলেও ব্যবস্থাপনায় তুলনামূলক সংযত। তারকাদের প্রকাশ্যে আক্রমণ না করে তিনি খেলোয়াড়দের পাশে দাঁড়ানোর নীতি নিয়েছেন, যদিও ক্লাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলতে পিছপা হন না—এখানেও দেখা যায় মরিনিওর ছায়া।

অন্যদিকে মরিনিও আজও আরবেলোয়াকে নিজের ‘সন্তান’ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর চোখে, আরবেলোয়া হয়তো ইতিহাসের সেরা রিয়াল খেলোয়াড় নন, কিন্তু মানুষ হিসেবে অন্যতম সেরা।

আজকের ম্যাচে আবেগ এক পাশে রেখে পেশাদারিত্বই মুখ্য। রিয়ালের জন্য ড্র-ই যথেষ্ট, বেনফিকার সামনে জয়ের বিকল্প নেই। তবু ডাগআউটে চোখাচোখি হলে পুরোনো স্মৃতি উঁকি দেবেই। সেই স্মৃতি কি প্রভাব ফেলবে কৌশলে? উত্তর দেবে মাঠের ৯০ মিনিটই।

Tags :

Shourav Gurukul

Recent News