খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ই জানুয়ারি ২০২৬, ৪:১ এএম

রাজধানীর দক্ষিণ জনপদের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা যাত্রাবাড়ীতে অপরাধীদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে নেমেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। মাদকের অভিশাপ থেকে সমাজকে মুক্ত করতে পরিচালিত বিশেষ কার্যক্রম ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ–২’-এর আওতায় গত ২৪ ঘণ্টায় এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান চালানো হয়েছে। ডিএমপির যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশের একাধিক টিম সমন্বিতভাবে এই সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে মোট ১০ জন কুখ্যাত মাদক কারবারিকে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছে। এই অভিযানের মাধ্যমে থানা এলাকার চিহ্নিত অপরাধপ্রবণ স্পটগুলোতে পুলিশের শক্ত অবস্থানের জানান দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই বিশেষ অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল এলাকায় মাদকের খুচরা বিক্রয় কেন্দ্রগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং সক্রিয় মাদকচক্রের সদস্যদের আটক করা। সোমবার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ থেকে প্রকাশিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সফল অভিযানের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়। তল্লাশিকালে গ্রেপ্তারকৃতদের হেফাজত থেকে পুলিশ বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে, যার মধ্যে রয়েছে ৯২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ছোট ছোট পুরিয়া আকারে প্যাকেটজাত ২৭ পুরিয়া উচ্চমাত্রার মাদক হেরোইন। এই অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কিশোর থেকে শুরু করে প্রৌঢ় ব্যক্তিও রয়েছেন, যা নির্দেশ করে যে মাদকচক্রগুলো সমাজে নানা বয়সের মানুষকে তাদের হীন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে।
অভিযানের ফলাফল এবং গ্রেপ্তারকৃতদের বিশদ তথ্য নিচে একটি সারণির মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| ক্ষেত্র | বিবরণ ও তথ্য |
| অভিযানের মূল লক্ষ্য | মাদক নির্মূল ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ |
| অভিযানের ধরন | ব্লক রেইড (অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ–২) |
| মোট আটকের সংখ্যা | ১০ জন অভিযুক্ত |
| জব্দকৃত মাদকের বিবরণ | ৯২টি ইয়াবা ও ২৭ পুরিয়া হেরোইন |
| বয়সের পরিসর | ১৯ বছর থেকে ৪৩ বছর পর্যন্ত |
| অভিযানের এলাকা | যাত্রাবাড়ী থানা এলাকার বিভিন্ন পয়েন্ট |
| পরবর্তী ব্যবস্থা | মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের ও হাজতে প্রেরণ |
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—রনি শিকদার ওরফে রাজন (৩৬), মো. দেলোয়ার হোসেন দেলু (৪৩), মো. খোকন (২১), ফয়সাল (১৯), মো. শুভ মোল্লা (১৯), মিজান (২৯), মো. মিজান (৩১), মো. সোহাগ (২৮), মো. রমজান ওরফে হৃদয় (২৫) ও মো. আলী (৩০)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা দীর্ঘকাল ধরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদক সংগ্রহ করে যাত্রাবাড়ীর বিভিন্ন অলিগলিতে সরবরাহ করে আসছিল। তাদের এই অপতৎপরতার কারণে এলাকার তরুণ সমাজ বিপথে যাচ্ছিল এবং চুরি-ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছিল।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ কেবল একটি সাময়িক অভিযান নয়, বরং এটি অপরাধ দমনের একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার অংশ। যাত্রাবাড়ী এলাকাটি ঢাকার প্রবেশমুখ হওয়ায় এখানে অপরাধীরা সহজে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ খোঁজে, তাই পুলিশি টহল এবং গোয়েন্দা নজরদারি দ্বিগুণ করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ১০ জনের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং তাদের সংশ্লিষ্ট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং মাদক নির্মূলে নিয়মিত এমন অভিযানের দাবি তুলেছেন।
মন্তব্য