যশোরের মনিরামপুরে এক দুঃসাহসিক ও বীভৎস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জনমনে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার কপালিয়া বাজারে রানা প্রতাপ বৈরাগী (৩৮) নামের এক বরফকল ব্যবসায়ীকে তাঁর নিজ কর্মস্থল থেকে ডেকে নিয়ে গুলি করে ও গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত রানা প্রতাপ কেবল একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়িই ছিলেন না, তিনি নড়াইল থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক বিডি খবর’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন। প্রকাশ্য দিবালোকে জনাকীর্ণ বাজারের কাছে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন ছুড়ে দিয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে রানা প্রতাপ তাঁর বরফকলে দৈনন্দিন কাজ তদারকি করছিলেন। সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে একটি মোটরসাইকেলে করে তিন জন অজ্ঞাত যুবক সেখানে উপস্থিত হয়। তারা অত্যন্ত স্বাভাবিক ভঙ্গিতে রানাকে কারখানার বাইরে ডেকে নিয়ে বাজারের পশ্চিম পাশের একটি গলিতে নিয়ে যায়। সেখানে পৌঁছানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই সাইলেন্সার লাগানো পিস্তল বা খুব কাছ থেকে মাথায় তিনটি গুলি ছুঁড়ে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। পৈশাচিকতার এখানেই শেষ নয়; মৃত্যু নিশ্চিত করতে ঘাতকরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর গলা কেটে রেখে দ্রুত মোটরসাইকেলে চড়ে পালিয়ে যায়। গুলির শব্দ ও এই ভয়াবহ দৃশ্য দেখে বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে হাহাকার ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
নিহত রানা প্রতাপ বৈরাগীর পরিচয় ও ঘটনার প্রেক্ষাপট নিচের সারণিতে বিস্তারিত দেওয়া হলো:
হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য ও প্রেক্ষাপট
| ক্যাটাগরি | তথ্য বিবরণ |
| নিহতের নাম | রানা প্রতাপ বৈরাগী (৩৮) |
| পিতার নাম ও নিবাস | তুষার কান্তি বৈরাগী, গ্রাম: আড়ুয়া, কেশবপুর |
| পেশাগত দ্বৈত সত্তা | ব্যবসায়ী (বরফকল) ও সাংবাদিক (ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক) |
| ঘটনাস্থল | কপালিয়া ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের গলি |
| আঘাতের ধরণ | মাথায় ৩টি গুলি এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে জবেহ করা |
| মামলার রেকর্ড | অভয়নগর ও কেশবপুর থানায় মোট ৪টি পূর্ববর্তী মামলা |
| তদন্তকারী সংস্থা | মনিরামপুর থানা পুলিশ, যশোর |
ঘটনার পরপরই মনিরামপুর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রজিউল্লাহ খান গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, নিহতের মাথায় তিনটি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং অত্যন্ত নৃশংসভাবে তাঁকে জবেহ করা হয়েছে। যদিও নিহতের বিরুদ্ধে কেশবপুর ও অভয়নগর থানায় মাদক বা অন্য সংক্রান্ত চারটি মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে, তবে এই হত্যাকাণ্ডটি ব্যক্তিগত শত্রুতা, পেশাগত বিরোধ নাকি কোনো বিশেষ মহলের ইশারায় ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বর্তমানে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। যশোরের পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, ঘাতকদের ধরতে জেলাজুড়ে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে এবং কপালিয়া বাজারের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। একজন সাংবাদিক ও ব্যবসায়ীকে এমন পরিকল্পিতভাবে হত্যার ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও সুশীল সমাজ তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অপরাধীদের গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম দিয়েছেন। তদন্তের স্বার্থে নিহতের পরিবারের সদস্যদের সাথেও কথা বলছে পুলিশ।
