খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ই জানুয়ারি ২০২৬, ৩:৫০ এএম

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর অভিবাসীদের জীবনযাত্রা ও তাদের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা নিয়ে সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ শেয়ার করা একটি পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়া বাংলাদেশি পরিবারগুলোর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ রাষ্ট্রীয় সমাজকল্যাণমূলক সুবিধার ওপর নির্ভরশীল। ‘ইমিগ্র্যান্ট ওয়েলফেয়ার রেসিপিয়েন্ট রেটস’ শীর্ষক ১২০টি দেশের এই তালিকায় দেখা যায়, ৫৪.৮ শতাংশ বাংলাদেশি পরিবার মার্কিন সরকারের আর্থিক বা সামাজিক সহায়তা গ্রহণ করছে, যা দেশটিকে তালিকার ১৯তম অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
এই প্রতিবেদনটি মূলত অভিবাসীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতার এক দর্পণ হিসেবে কাজ করছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভুটানি অভিবাসীরা ৮১.৪ শতাংশ হার নিয়ে এই তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করছে। এছাড়া আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের অবস্থান যথাক্রমে ৬ষ্ঠ ও ৬০তম। তবে বিস্ময়করভাবে ভারত ও শ্রীলঙ্কার নাম এই তালিকায় নেই, যার অর্থ হলো এই দুই দেশের অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রে অত্যন্ত স্বাবলম্বী এবং তারা সরকারি সাহায্যের ওপর নির্ভর করে না। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই উচ্চ হার নির্দেশ করে যে, বিপুলসংখ্যক অভিবাসী সেখানে এখনো দারিদ্র্যসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছেন।
পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২৫ সালের সর্বশেষ তথ্যমতে, গত বিশ বছরে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের সংখ্যা প্রায় ৫৬৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০০ সালে যেখানে মাত্র ৪০ হাজার বাংলাদেশি সেখানে বসবাস করতেন, ২০২৩ সালে তা ২ লাখ ৭০ হাজারে উন্নীত হয়েছে। এই দ্রুত জনবৃদ্ধির বিপরীতে বাংলাদেশিদের গড় আয় অন্যান্য এশীয়দের তুলনায় বেশ কম। ২০২৩ সালের উপাত্ত অনুযায়ী, সামগ্রিকভাবে এশীয় পরিবারগুলোর গড় বার্ষিক আয় ১ লাখ ৫ হাজার ৬০০ ডলার হলেও বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে তা মাত্র ৭৮ হাজার ৪০০ ডলার। এই বিশাল আয় বৈষম্যই মূলত বাংলাদেশিদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণে বাধ্য করছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের সরকারি সুবিধা গ্রহণের হারের তুলনামূলক চিত্র নিচে উপস্থাপন করা হলো:
| দেশের নাম | সুবিধা গ্রহণকারী পরিবারের হার (%) | অবস্থানের পর্যায় |
| ভুটান | ৮১.৪% | শীর্ষ অবস্থান |
| ইয়েমেন | ৭৫.২% | দ্বিতীয় সর্বোচ্চ |
| আফগানিস্তান | ৬৮.১% | ষষ্ঠ অবস্থান |
| বাংলাদেশ | ৫৪.৮% | ১৯তম অবস্থান |
| পাকিস্তান | ৪০.২% | ৬০তম অবস্থান |
| নেপাল | ৩৪.৮% | ৯০তম অবস্থান |
| কোরিয়া | ২৭.২% | নিম্ন পর্যায় |
| বারমুডা | ২৫.৫% | সর্বনিম্ন পর্যায় |
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্যক্তিগত আয়ের স্বল্পতা এবং উচ্চ দারিদ্র্য হারই এই পরিস্থিতির মূল কারণ। যুক্তরাষ্ট্রে এশীয়দের গড় দারিদ্র্য হার ১০ শতাংশ হলেও বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে তা ১৪ শতাংশ। উপযুক্ত কর্মসংস্থান ও উচ্চশিক্ষার অভাব অনেক ক্ষেত্রে তাদের পিছিয়ে রাখছে। ফলে খাদ্য সহায়তা (SNAP), হাউজিং ভাউচার বা মেডিকেইডের মতো ওয়েলফেয়ার প্রোগ্রামগুলোর ওপর বাংলাদেশিদের নির্ভরতা বাড়ছে। এই তথ্যগুলো মার্কিন অভিবাসন নীতিতে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন বিরোধী কঠোর অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে। তাই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের অর্থনৈতিক উত্তরণ ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি।
মন্তব্য