হামিন আহমেদ জানতে চান দলগুলোর সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গি

জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার অপেক্ষায় দেশজুড়ে নির্বাচনী প্রস্তুতি তুঙ্গে পৌঁছেছে। রাজনৈতিক দলগুলো ইতিমধ্যেই ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে কেমন দেখতে চায়, তার পরিকল্পনা নির্ধারণ করে ইশতেহারের মাধ্যমে জনগণের সামনে উপস্থাপন করছে। এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড মাইলসের প্রধান সংগীতশিল্পী হামিন আহমেদ সাধারণ মানুষ ও সংগীতপ্রেমীদের পক্ষ থেকে জানতে চাইছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সংগীত ও সাংস্কৃতিক পরিকল্পনা কী হবে। হামিন স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো রাজনৈতিক দলের ইশতেহারে সংগীত ও সংস্কৃতির প্রতি ইতিবাচক অবস্থান না থাকলে, সেই দলকে তিনি ভোট দেবেন না।

গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে হামিন লিখেছেন, “জাতীয় নির্বাচন আর কিছুদিনের মধ্যে। সংগীতশিল্পী, স্রষ্টা এবং সংগীতপ্রেমীরা জানতে চায়—ভবিষ্যতের বাংলাদেশে আপনার সাংস্কৃতিক ও সংগীতভিত্তিক ইশতেহার কী? দেশের ৫৪ বছরের ইতিহাসে কোনো রাজনৈতিক দল কখনোই সংগীত ও সংস্কৃতির ওপর স্পষ্ট পরিকল্পনা প্রকাশ করেনি। অন্য সব বিষয়ে ইশতেহার থাকলেও সংগীতের বিষয়ে নেই। আমরা জানতে চাই—সংগীত নিয়ে আপনার কৌশল কী।”

হামিন তার পোস্টে দেশের সংগীতভিত্তিক জনগোষ্ঠীর পরিসংখ্যানও তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশের প্রায় ২৮.৪০ শতাংশ মানুষ রেডিও, পডকাস্ট ও অন্যান্য মাধ্যমে গান শোনেন, আর এআই-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০৩০ সালে এটি প্রায় ৫১.৯১ মিলিয়ন হবে, যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশের সমান। হামিন মন্তব্য করেছেন, “এই বিপুল সংখ্যক মানুষ যদি বলে, যে কোনো সংগীতবিরোধী দল বা প্রার্থীকে ভোট দেব না, তাহলে কী হবে? রাজনৈতিক দলগুলোকে এই ক্ষমতা উপলব্ধি করতে হবে।”

হামিন আহমেদের এই পোস্ট ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়ে দেশের বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক সংগীতশিল্পী, গীতিকার, সুরকার, ব্যান্ড সদস্য ও সংগীতপ্রেমী পোস্টটি শেয়ার করে সমর্থন জানিয়েছেন।

আজকের পত্রিকাকে তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে সহশিল্পীদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। লক্ষ্য করেছি, রাজনৈতিক ইশতেহারে সবকিছু আলাদা হলেও মিউজিক ও আর্ট কালচার বিষয়ে কোনো পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয় না। অথচ কোনো অনুষ্ঠানেই গান বা বাজনা থাকে না—তাহলে মিউজিশিয়ানরা বারবার ‘সাফার’ করবে। এখনই আমরা জানতে চাই, যে দলগুলো নির্বাচনে যাচ্ছে, তাদের আর্ট ও সংস্কৃতি নিয়ে স্ট্র্যাটেজি কী। এখনও কোনো দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ঘোষণা আসেনি।”

হামিন সতর্ক করে বলেন, “বর্তমান সময়ে দেশে সংগীত-সংস্কৃতির ওপর অনেক চক্রান্তমূলক ও বিভ্রান্তিকর ঘটনা ঘটছে। শো বাতিল হচ্ছে, কখনো কখনো গান-বাজনা বন্ধ করতে হবে বলা হচ্ছে। আমরা কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করি না, তবে স্পষ্ট জানতে চাই—নির্বাচনে অংশ নেওয়া দলগুলো আমাদের সংগীত ও সাংস্কৃতিক অধিকার কিভাবে রক্ষা ও এগিয়ে নেবে।”