সীমান্তে গুলিবিদ্ধ যুবকের মৃত্যু

লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার আমঝোল সীমান্ত এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে খাদেমুল ইসলাম (২৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার বনচৌকি সীমান্ত ফাঁড়ি এলাকায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে উদ্ধার করে রংপুর শহরের একটি বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত খাদেমুল ইসলাম হাতীবান্ধা উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের উত্তর আমঝোল গ্রামের বাসিন্দা এবং আমজাদ হোসেনের ছেলে। তার মৃত্যু ঘিরে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা ও বিভিন্ন প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার গভীর রাতে খাদেমুল ইসলামসহ কয়েকজন ব্যক্তি সীমান্তের ৯০৫/৬ নম্বর সীমান্ত পিলার সংলগ্ন এলাকা দিয়ে ভারতের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে তারা কাঁটাতারের বেড়ার কাছাকাছি পৌঁছালে ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর টহল দল তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে বলে দাবি করা হয়। এতে খাদেমুল ইসলাম মাথা, বুক ও মুখে গুলিবিদ্ধ হন।

সহযোগীরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনে। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে রংপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে বৃহস্পতিবার দুপুরে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।

এদিকে নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের পক্ষ থেকে ভিন্ন দাবি করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, খাদেমুল ইসলাম রাতে নদীর ঘাটে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। সেই সময় সীমান্ত এলাকায় গুলির ঘটনা ঘটে এবং তিনি সেখানে গুলিবিদ্ধ হন।

সীমান্ত পরিস্থিতি ও ঘটনার বিভিন্ন দিক নিচের সারণিতে উপস্থাপন করা হলো—

বিষয়তথ্য
নিহত ব্যক্তিখাদেমুল ইসলাম (২৫)
পিতাআমজাদ হোসেন
এলাকাউত্তর আমঝোল, গোতামারী ইউনিয়ন, হাতীবান্ধা
গুলির ঘটনাসীমান্ত পিলার ৯০৫/৬ সংলগ্ন এলাকা
আহত হওয়ার সময়বুধবার গভীর রাত
মৃত্যুর স্থানরংপুরের একটি বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র
অবস্থানবনচৌকি সীমান্ত এলাকা, লালমনিরহাট

ঘটনার পর লালমনিরহাট জেলার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, সীমান্ত এলাকায় এক বাংলাদেশি নাগরিক আহত হওয়ার খবর তারা জানতে পারে। পরে স্থানীয়রা তাকে চিকিৎসার জন্য রংপুরে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করা হয়।

তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিবেশী দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে তারা বিষয়টি তদন্তের আশ্বাস দিলেও পরবর্তীতে এ ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়টি অস্বীকার করেছে বলে জানানো হয়।

স্থানীয় সীমান্ত বাহিনীর অধিনায়কের বরাত দিয়ে জানানো হয়, নিহতের শরীরে গুলির আঘাতের ধরন ও ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে একাধিক সম্ভাবনা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি কোম্পানি ও ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের প্রস্তুতিও চলছে।

হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানানো হয়।

সীমান্তবর্তী এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকাজুড়ে উদ্বেগ ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।