কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার পশ্চিম জোড়কানন ইউনিয়নের গোয়ালগাঁও গ্রামে পারিবারিক বিরোধ ও সামান্য কথাকাটাকাটির জেরে বড় ভাইয়ের দা’র কোপে ছোট ভাই নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বড় ভাই মোরশেদকে পুলিশ আটক করেছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, নিহত ফয়সাল (৩৫) ওই গ্রামের মৃত রাজামিয়ার ছেলে। অভিযুক্ত মোরশেদ (৪০) তার আপন বড় ভাই। বৃহস্পতিবার দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে বুধবার রাতে। অভিযুক্ত মোরশেদের স্ত্রী স্থানীয় একটি কারখানায় কাজ করেন। তিনি রাতে কাজ শেষে সকালে বাড়ি ফিরে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। ওই সময় বাড়ির পাশে কিছু শিশু খেলাধুলা ও হইচই করছিল। এতে মোরশেদ ক্ষুব্ধ হয়ে বাইরে বের হয়ে শিশুদের বকাঝকা করেন এবং বলেন, তার স্ত্রীর ঘুমে ব্যাঘাত ঘটছে।
এ সময় ছোট ভাই ফয়সাল বিষয়টি নিয়ে বড় ভাইকে শান্ত হতে বলেন। এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি এবং পরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। কিছুক্ষণ পর তারা উভয়েই বাড়ি থেকে বের হয়ে যান।
পুলিশ জানায়, পরে দুপুরের দিকে দুই ভাই আবার বাড়িতে ফিরে আসেন এবং পুনরায় তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে মোরশেদ ঘর থেকে দা নিয়ে এসে ফয়সালের ওপর আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় ফয়সাল মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে স্থানীয় সুয়াগাজী বাজার এলাকা থেকে অভিযুক্ত মোরশেদকে আটক করে।
এ বিষয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম (মার্ক করা: কালের কণ্ঠ) জানান, প্রাথমিক তদন্তে পারিবারিক বিরোধ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনার পরপরই লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত সময়রেখা
| সময় | ঘটনা |
|---|---|
| বুধবার রাত | অভিযুক্তের স্ত্রী রাতের কাজ শেষে বাড়ি ফেরেন |
| বৃহস্পতিবার সকাল | বিশ্রামের সময় শিশুদের হইচই নিয়ে বিরোধ শুরু |
| দুপুর আনুমানিক দেড়টা | দুই ভাইয়ের মধ্যে চূড়ান্ত সংঘর্ষ ও হামলা |
| বিকেল ৩টা ৩০ মিনিট | অভিযুক্ত মোরশেদ স্থানীয় বাজার এলাকা থেকে আটক |
| পরবর্তী সময় | লাশ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো ও মামলা প্রক্রিয়া শুরু |
এ ঘটনায় পুরো গ্রামে শোক ও উত্তেজনার পরিবেশ বিরাজ করছে। পারিবারিক সামান্য বিরোধ কীভাবে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে, এই ঘটনা তারই একটি দুঃখজনক উদাহরণ হয়ে রইল।
