কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিজিবির সর্বোচ্চ সতর্কতা অবস্থা জোরদার হয়েছে

কুড়িগ্রামের প্রায় ১৯৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও কঠোর নজরদারি জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ। সীমান্ত এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ন (২২ বিজিবি) তাদের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত টহলের পাশাপাশি বিশেষ টহল কার্যক্রম আরও বৃদ্ধি করেছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ন (২২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাহবুব-উল-হক। তিনি জানান, সীমান্ত এলাকায় যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি প্রতিরোধ, চোরাচালান দমন এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি বিশেষ পরিকল্পিত টহল ও গোয়েন্দা কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দায়িত্বপূর্ণ প্রতিটি সীমান্ত ফাঁড়ি থেকে দিন-রাত বিরতিহীনভাবে টহল পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত নজরদারি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সন্দেহজনক যেকোনো গতিবিধি তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।

সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে স্থানীয় পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে বলে জানানো হয়। এতে করে সীমান্ত অতিক্রম সংক্রান্ত যেকোনো ঝুঁকি দ্রুত চিহ্নিত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাহবুব-উল-হক বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সীমান্তে চোরাচালান বন্ধ এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবি কঠোর নীতি অনুসরণ করছে। তিনি আরও বলেন, সীমান্তে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে নিয়মিত টহল ও নজরদারি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

সীমান্ত নিরাপত্তা কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক নিচের সারণিতে উপস্থাপন করা হলো—

কার্যক্রমের ধরনবিবরণ
নিয়মিত টহলপ্রতিটি সীমান্ত ফাঁড়ি থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত
বিশেষ টহলঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা
নজরদারিগুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বাড়তি পর্যবেক্ষণ
গোয়েন্দা তৎপরতাতথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ কার্যক্রম জোরদার
প্রস্তুতিমূলক অবস্থাযেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা

বিজিবি জানায়, সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পর্যায়ে সমন্বিত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে জানানো হয়।

সামগ্রিকভাবে কুড়িগ্রাম সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও সুসংগঠিত ও সক্রিয় করা হয়েছে, যাতে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের ব্যত্যয় না ঘটে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে।