রোনালদিনহোর সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন ফুটবলপ্রেমীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের। কারণ, তিনি কেবল শিরোপাজয়ী একজন ফুটবলার নন; তাঁর খেলার ধরনও ছিল স্বতন্ত্র। প্রতিপক্ষের একাধিক খেলোয়াড়কে ড্রিবলিংয়ে পরাস্ত করা, অপ্রত্যাশিত পাস দেওয়া এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার ক্ষমতা তাঁকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বিনোদনদায়ী তারকায় পরিণত করেছিল।
২০০২ সালে ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য ছিলেন রোনালদিনহো। দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে অনুষ্ঠিত সেই বিশ্বকাপে তাঁর পারফরম্যান্স দলটির সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ২০০৫ সালে তিনি জেতেন ব্যালন ডি’অর, যা বিশ্বের সেরা ফুটবলার হিসেবে তাঁর অবস্থানকে আরও দৃঢ় করে। বার্সেলোনার হয়ে খেলার সময়ও তিনি অসাধারণ নৈপুণ্য দেখান। স্প্যানিশ ক্লাবটির হয়ে তাঁর পারফরম্যান্স বিশ্বজুড়ে সমর্থকদের মুগ্ধ করেছিল। পরে ইতালির এসি মিলানেও খেলেছেন এই ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি।
প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে রোনালদিনহোর সর্বশেষ উপস্থিতি ছিল ২০১৫ সালে, ব্রাজিলের ক্লাব ফ্লুমিনেন্সের হয়ে। ২০১৮ সালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পেশাদার ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন। এরপর দীর্ঘ সময় মাঠের নিয়মিত খেলোয়াড় হিসেবে তাঁকে দেখা যায়নি। ফলে আবার প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে তাঁর উপস্থিতির সম্ভাবনা ফুটবল অঙ্গনে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে।
রাভেনার সঙ্গে খেলোয়াড় ও সহ-মালিকের সম্পর্ক
রোনালদিনহোর রাভেনায় যোগ দেওয়ার বিষয়টি শুধু খেলোয়াড় হিসেবে তাঁর প্রত্যাবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। চলতি বছরের জুনে ক্লাবটির সঙ্গে চুক্তি সই করার পর জানা যায়, তিনি ক্লাবটির শেয়ারও কিনেছেন। ফলে খেলোয়াড়ের পাশাপাশি সহ-মালিক হিসেবেও রাভেনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন তিনি। ক্লাবটির মালিক তাঁর বন্ধু ইগনাজিও সিপ্রিয়ানি।
সিপ্রিয়ানি জানিয়েছেন, রোনালদিনহোর মতো বিশ্বপরিচিত ব্যক্তিত্বকে ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত করার অন্যতম লক্ষ্য হলো স্থানীয় মানুষের সঙ্গে রাভেনার সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করা। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন একজন সাবেক বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলারের উপস্থিতি ক্লাবটির পরিচিতি বাড়াতে পারে এবং সমর্থকদের আগ্রহও জোরদার করতে পারে।
গত আগস্টে ইতালিতে পৌঁছানোর পর রোনালদিনহো প্রথম দিকে নিজে মাঠে নামার বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলেননি। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, দলকে সহায়তা করতেই এসেছেন। তবে তাঁর পেশাদার ক্যারিয়ারের ৩০০তম গোল করার সম্ভাবনাও আলোচনায় ছিল। দীর্ঘ বিরতির পর প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে ফিরলে সেই মাইলফলক ছোঁয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে, যদিও এ বিষয়ে নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না।
ফোরলির বিপক্ষে ডার্বিতে বাড়তি আকর্ষণ
রাভেনার নিজস্ব মাঠ স্টাদিও ব্রুনো বেনেলিতে ফোরলির বিপক্ষে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। দুই দলের ঐতিহ্যবাহী প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে ম্যাচটি স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। এমন একটি লড়াইয়ে রোনালদিনহোর উপস্থিতি দর্শকদের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইতালির তৃতীয় স্তরের লিগে ১০ ম্যাচে ২০ পয়েন্ট নিয়ে রাভেনা তখন পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে ছিল। শীর্ষে থাকা স্পেজিয়ার চেয়ে দলটি আট পয়েন্ট পিছিয়ে ছিল। লিগে ভালো অবস্থান ধরে রাখতে দলের জন্য প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। তবে রোনালদিনহো মাঠে নামলে দলের কৌশল বা ফলাফলে কী প্রভাব পড়বে, তা ম্যাচের আগে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
দীর্ঘদিন প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলের বাইরে থাকার পর মাঠে ফিরলে রোনালদিনহোর সামনে শারীরিক সক্ষমতা, ম্যাচের গতি এবং নিয়মিত খেলার চাপের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ থাকবে। তাঁর অভিজ্ঞতা ও কারিগরি দক্ষতা এখনও দর্শকদের কাছে আকর্ষণীয় হলেও, অতীতের সেরা সময়ের সঙ্গে বর্তমান পারফরম্যান্সের তুলনা করার ক্ষেত্রে বয়স ও দীর্ঘ বিরতির বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে।
রোনালদিনহোর ভক্তদের প্রত্যাশা অবশ্য শুধু গোল বা জয়কে ঘিরে নয়। তাঁরা আবারও দেখতে চান বল পায়ে তাঁর পরিচিত ছন্দ, সৃজনশীলতা এবং সেই আনন্দময় ফুটবল, যা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছিল। আগামী ১৫ নভেম্বর তাঁর মাঠে নামার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে, সেটি হবে দীর্ঘ বিরতির পর এক কিংবদন্তির প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে ফেরার স্মরণীয় মুহূর্ত।









