বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের বামনদল সীমান্তের বাংলাদেশ অংশে কৃষকেরা নিজেদের কৃষিকাজে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় স্থানীয় একটি নদী পেরিয়ে কয়েকজন বিএসএফ সদস্য বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। পরে তাঁরা কৃষকদের ওই স্থান থেকে চলে যেতে বলেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা লাঠি দিয়ে কৃষকদের মারধর করেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সূত্রগুলো।
কৃষকদের ওপর হামলার অভিযোগ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন। একপর্যায়ে কৃষকেরা লাঠি হাতে বিএসএফ সদস্যদের ধাওয়া করেন। স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ধাওয়ার মুখে পিছু হটার সময় বিএসএফ সদস্যরা বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়েন। পরে তাঁরা সীমান্তের ওপারে চলে যান।
ঘটনাটি ঘটেছে বামনদল সীমান্তের ৮৩৭ নম্বর প্রধান সীমান্ত পিলারের ৪ নম্বর উপপিলারের কাছে। সীমান্তের নির্দিষ্ট পিলার ও উপপিলার দিয়ে ঘটনাস্থল চিহ্নিত করা হলেও বিএসএফ সদস্যরা কী পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ভেতরে প্রবেশ করেছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে, কৃষকদের কেউ আহত হয়েছেন কি না এবং সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, তা-ও তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনার পর বামনদল সীমান্ত এলাকায় উদ্বেগ ও উত্তেজনা দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সীমান্তে টহল ও নজরদারি জোরদার করেছে বিজিবি। সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়া ঠেকাতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশি সীমান্তরক্ষী বাহিনী।
রংপুর ৬১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুহা. শাহীনুল ইসলাম জানান, ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে পতাকা বৈঠক আয়োজনের আহ্বান করে বিএসএফকে বার্তা পাঠানো হয়েছে। সীমান্তে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে এ ধরনের যোগাযোগের মাধ্যমে ঘটনার ব্যাখ্যা চাওয়া এবং পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ তৈরি হয়।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে নিরাপত্তা, সীমান্তবাসীর চলাচল এবং কৃষিকাজের মতো দৈনন্দিন কার্যক্রম নিয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্তের কাছাকাছি বসবাসকারী কৃষকেরা অনেক সময় তাঁদের জমিতে কাজ করতে গিয়ে নিরাপত্তা ও চলাচলসংক্রান্ত নানা পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। এ ধরনের ঘটনায় অভিযোগের নিরপেক্ষ যাচাই, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য সংগ্রহ এবং দ্রুত যোগাযোগের মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমিত করা জরুরি।
তবে বামনদল সীমান্তের সর্বশেষ ঘটনাটি নিয়ে বিএসএফের বক্তব্য পাওয়া গেছে কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ, সম্ভাব্য আহত ব্যক্তিদের অবস্থা এবং পতাকা বৈঠকের সময়সূচি সম্পর্কেও বিস্তারিত জানা যায়নি। বিজিবির প্রতিবাদী বার্তার পর বিএসএফের প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর সীমান্ত পরিস্থিতির অগ্রগতি নির্ভর করবে।









