এর আগে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার কালমা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার দোকান এলাকার ডাক্তার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ফিরোজ ওই বাড়ির কাশেম আলীর ছেলে। তিনি কালমা ইউনিয়ন (উত্তর) যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ফিরোজ একই বাড়ির কাজল নামের এক ব্যক্তির ঘরের পাশে নিজের জমিতে শিমগাছ রোপণ করেন। গাছের লতা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য সেখানে বাঁশ দিয়ে একটি মাচাও তৈরি করেন তিনি। তবে পরদিন শুক্রবার জুমার নামাজের পর কাজলের স্ত্রী জান্নাত ওই মাচা কেটে ফেলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
নামাজ শেষে বাড়িতে ফিরে মাচা কেটে ফেলার বিষয়টি দেখতে পান ফিরোজ। এ নিয়ে জান্নাতের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে জান্নাতের স্বামী কাজল ঘটনাস্থলে এসে ফিরোজকে দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। এতে ফিরোজ গুরুতর আহত হন।
ঘটনার পর আহত ফিরোজকে দ্রুত লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু অবস্থার আরও অবনতি হওয়ায় স্বজনেরা তাঁকে ঢাকায় নিয়ে যান। সেখানে সুপারম্যাক্স হেলথ কেয়ার লিমিটেড নামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার বিকেলে তাঁর মৃত্যু হয়।
সামান্য জমিতে সবজি চাষ এবং গাছের মাচা তৈরি নিয়ে বিরোধ কীভাবে প্রাণঘাতী সহিংসতায় রূপ নিল, তা নিয়ে এলাকায় আলোচনা চলছে। তবে ঘটনার পেছনের পরিস্থিতি, হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং এতে অন্য কেউ জড়িত ছিলেন কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। স্থানীয় সূত্রে পাওয়া বিবরণ অনুযায়ী, প্রথমে মাচা কাটা নিয়ে বাক্বিতণ্ডা এবং পরে হামলার ঘটনা ঘটে।
লালমোহন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নূরুল আমিন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কাজলকে আটক করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় তদন্তের অগ্রগতি, হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার কিংবা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। মামলা দায়েরের পর ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট আলামত যাচাই করে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা হবে।









