জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ই আগস্ট ২০২৬, ৭:৫৩ পিএম

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে সংকটের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী। বিদ্যুৎ বিভ্রাট, দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিং, গ্যাসের স্বল্পতা এবং অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে প্রতীকীভাবে হারিকেন ও হাড়ি-পাতিল নিয়ে তারা রাস্তায় নামেন।
সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে জাতীয় ছাত্রশক্তির উদ্যোগে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা হাতে হারিকেন ও হাড়ি-পাতিল নিয়ে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাদের বক্তব্যে নাগরিক জীবনে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহের অনিয়মের পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টিও উঠে আসে।
বিক্ষোভে বক্তারা অভিযোগ করেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিং হচ্ছে। দিনের একটি বড় সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য সেবামূলক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলেও দাবি করেন তারা। একই সঙ্গে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় অনেক এলাকায় রান্নার কাজেও সমস্যায় পড়ছেন গ্রাহকেরা।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, কিছু এলাকায় দিনে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতির পাশাপাশি গ্রাহকদের ওপর বিদ্যুৎ বিলের চাপও বেড়েছে। বিশেষ করে জুন ও জুলাই মাসের বিল নিয়ে অনেকে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষ্য, কোনো কোনো গ্রাহকের ক্ষেত্রে আগের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি বিল এসেছে। এমনকি বিদ্যুৎ ব্যবহারের সঙ্গে বিলের পরিমাণের সামঞ্জস্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহের সংকটের সমাধান না করে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে। তারা বলেন, একদিকে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ থাকছে না, অন্যদিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকলেও অনেক গ্রাহককে বেশি বিল দিতে হচ্ছে। এ অবস্থায় সরবরাহব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করার পাশাপাশি বিল নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
বক্তারা গ্যাস সরবরাহের সংকট নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে পাম্প ও বিভিন্ন স্থাপনায় গ্যাসের স্বল্পতার কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে বলে তারা দাবি করেন। একই সঙ্গে গ্যাসের দাম বাড়ানোর যে কোনো উদ্যোগের বিরোধিতা করে তারা বলেন, আগে বিদ্যমান সংকটের স্থায়ী সমাধান করতে হবে। মানুষের দৈনন্দিন জীবন যখন জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটে বিপর্যস্ত, তখন নতুন করে ব্যয়ের চাপ তৈরি করা গ্রহণযোগ্য নয়।
বিক্ষোভে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। বক্তারা বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকটের সঙ্গে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলছে। আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর চাপ বাড়ছে। তাদের মতে, নাগরিকদের মৌলিক সেবা নিশ্চিত করা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় সহনীয় পর্যায়ে রাখা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
বক্তারা সরকারের প্রতি দ্রুত বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিলের অসঙ্গতি থাকলে তা তদন্ত করে সংশোধন, গ্রাহকদের অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরানোর দাবি তোলেন তারা।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন যখন বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অনিশ্চয়তায় আটকে যাচ্ছে, তখন শুধু আশ্বাস নয়, কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। সংকটের দ্রুত সমাধান না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করেন তারা।
মন্তব্য