বাংলাদেশে ৩০ আগস্ট ২০২৬ তারিখের জন্য বৈদেশিক মুদ্রার সর্বশেষ বিনিময় হার প্রকাশ করা হয়েছে। এতে মার্কিন ডলার, ব্রিটিশ পাউন্ড, ইউরো, ভারতীয় রুপি, অস্ট্রেলিয়ান ডলার, সিঙ্গাপুর ডলার, চীনা ইউয়ান ও জাপানি ইয়েনের বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার নির্ধারিত কেনা ও বিক্রির হার তুলে ধরা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, আমদানি-রপ্তানি, বিদেশে পড়াশোনা ও চিকিৎসা, ভ্রমণ এবং প্রবাসী আয়সহ নানা ক্ষেত্রে এসব হার গুরুত্বপূর্ণ।
প্রকাশিত হারে দেখা গেছে, মার্কিন ডলারের প্রতি ইউনিটের কেনার হার ১২১ টাকা ৯৫ পয়সা এবং বিক্রির হার ১২২ টাকা ২০ পয়সা। অর্থাৎ ডলার কেনা ও বিক্রির হারের ব্যবধান ২৫ পয়সা। বাংলাদেশের বৈদেশিক লেনদেনের বড় একটি অংশ ডলারের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ায় এই মুদ্রার দামের ওঠানামা আমদানি ব্যয়, বিদেশি পণ্যের মূল্য এবং আন্তর্জাতিক পরিশোধ ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে।
ব্রিটিশ পাউন্ডের ক্ষেত্রেও কেনা ও বিক্রির হারে পার্থক্য রয়েছে। প্রতি পাউন্ডের কেনার হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬৫ টাকা ৮৮ পয়সা, আর বিক্রির হার ১৬৬ টাকা ৩১ পয়সা। ফলে দুই হারের ব্যবধান ৪৩ পয়সা। যুক্তরাজ্যে শিক্ষা, চিকিৎসা, ভ্রমণ কিংবা ব্যবসায়িক লেনদেনের ক্ষেত্রে এই হার ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় অর্থের হিসাব করা যায়।
ইউরোর কেনার হার ১৪২ টাকা ৪০ পয়সা এবং বিক্রির হার ১৪২ টাকা ৭১ পয়সা। ফলে প্রতি ইউরোতে ব্যবধান ৩১ পয়সা। ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে পণ্য ও সেবা বাণিজ্য, শিক্ষাব্যয়, পর্যটন এবং অন্যান্য বৈদেশিক লেনদেনে ইউরোর মূল্য বাংলাদেশের ব্যক্তি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক হিসাবকে প্রভাবিত করে।
ভারতীয় রুপির ক্ষেত্রে কেনা ও বিক্রির হার একই রাখা হয়েছে। প্রতি রুপির জন্য উভয় হার ১ টাকা ২৭ পয়সা। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি, সীমান্তবর্তী বাণিজ্য, ভ্রমণ এবং ব্যক্তিগত অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে এ হার প্রাসঙ্গিক।
অস্ট্রেলিয়ান ডলারের কেনার হার ৮৬ টাকা ৮৬ পয়সা এবং বিক্রির হার ৮৭ টাকা ৯ পয়সা। সিঙ্গাপুর ডলারের ক্ষেত্রে যথাক্রমে ৯৫ টাকা ৯৩ পয়সা ও ৯৬ টাকা ১৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। চীনা ইউয়ানের কেনার হার ১৮ টাকা ১১ পয়সা এবং বিক্রির হার ১৮ টাকা ১৫ পয়সা। অন্যদিকে জাপানি ইয়েনের ক্ষেত্রে প্রতি ইয়েনের কেনা ও বিক্রির হার উভয়ই ৭৭ পয়সা।
| মুদ্রা | কেনার হার | বিক্রির হার | ব্যবধান |
|---|---|---|---|
| মার্কিন ডলার | ১২১.৯৫ টাকা | ১২২.২০ টাকা | ০.২৫ টাকা |
| ব্রিটিশ পাউন্ড | ১৬৫.৮৮ টাকা | ১৬৬.৩১ টাকা | ০.৪৩ টাকা |
| ইউরো | ১৪২.৪০ টাকা | ১৪২.৭১ টাকা | ০.৩১ টাকা |
| ভারতীয় রুপি | ১.২৭ টাকা | ১.২৭ টাকা | ০ টাকা |
| অস্ট্রেলিয়ান ডলার | ৮৬.৮৬ টাকা | ৮৭.০৯ টাকা | ০.২৩ টাকা |
| সিঙ্গাপুর ডলার | ৯৫.৯৩ টাকা | ৯৬.১৩ টাকা | ০.২০ টাকা |
| চীনা ইউয়ান | ১৮.১১ টাকা | ১৮.১৫ টাকা | ০.০৪ টাকা |
| জাপানি ইয়েন | ০.৭৭ টাকা | ০.৭৭ টাকা | ০ টাকা |
বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার স্থির নয়। আন্তর্জাতিক বাজারে মুদ্রার চাহিদা ও জোগান, আমদানি-রপ্তানির ভারসাম্য, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, প্রবাসী আয় এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয় এর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। একই কারণে এক দিন থেকে আরেক দিনে কোনো মুদ্রার বিপরীতে টাকার মূল্য পরিবর্তিত হওয়াও স্বাভাবিক।
তবে প্রকাশিত এই হারকে নির্দেশক বা নির্ধারিত হার হিসেবে দেখা প্রয়োজন। বাস্তবে কোনো ব্যাংক, অনুমোদিত মুদ্রা বিনিময় প্রতিষ্ঠান বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে লেনদেনের সময় কার্যকর হার কিছুটা আলাদা হতে পারে। নগদ বৈদেশিক মুদ্রা, ব্যাংকিং চ্যানেল, প্রবাসী আয় কিংবা নির্দিষ্ট ধরনের বৈদেশিক লেনদেনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হারে পার্থক্য থাকতে পারে।
বিশেষ করে বড় অঙ্কের অর্থ বিদেশে পাঠানো, বিদেশ থেকে পণ্য আমদানির অর্থ পরিশোধ, শিক্ষা বা চিকিৎসার ব্যয় মেটানো কিংবা ভ্রমণের জন্য মুদ্রা কেনার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ কার্যকর হার যাচাই করা জরুরি। কারণ ঘোষিত হারের সামান্য পার্থক্যও বড় অঙ্কের লেনদেনে মোট ব্যয়ের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।









