জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

টঙ্গী থানার ভেতরেই ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান

গাজীপুরের টঙ্গীতে পৃথক অভিযানে ছাত্রলীগের পাঁচ নেতাকর্মীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (৩০ আগস্ট) টঙ্গী পশ্চিম থানায় পাঁচজন এবং টঙ্গী পূর্ব থানায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানোর সময় টঙ্গী পূর্ব থানার ভেতরে অপেক্ষমাণ কয়েকজন স্বজন ও সমর্থক প্রকাশ্যে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’সহ রাজনৈতিক স্লোগান দেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের থানার ভেতর থেকে গাড়িতে তোলার সময় কয়েকজন ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, জয় জননেত্রী শেখ হাসিনা’ স্লোগান দেন। থানার মতো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন একটি স্থানে এ ধরনের রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ঘটনার সময় কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী তাঁদের মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করেন। তাঁদের কয়েকজনের অভিযোগ, পরে টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সহকারী পুলিশ কমিশনার তাঁদের ধারণ করা স্লোগানের ভিডিও মুছে দিতে বলেন। তাঁদের দাবি, কয়েকটি ভিডিও পরবর্তীতে মুছে দেওয়া হয়। তবে ভিডিও মুছে দেওয়ার অভিযোগের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপট স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন একটি থানার ভেতরে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়ার সুযোগ কীভাবে তৈরি হলো। একই সঙ্গে এমন পরিস্থিতি থানার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার ওপর কোনো ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

গণমাধ্যমকর্মীদের ধারণ করা ভিডিও মুছে দেওয়ার অভিযোগ নিয়েও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছেন স্থানীয় কয়েকজন। তাঁদের মতে, অভিযোগটি সত্য হলে ভিডিও মুছে দেওয়ার নির্দেশ কেন দেওয়া হয়েছিল, সেটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরিষ্কার করা প্রয়োজন। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে পৃথক কোনো ব্যাখ্যার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

টঙ্গী পশ্চিম থানায় গ্রেপ্তার পাঁচজন হলেন বড় দেওরা এলাকার মন্ডল মার্কেটের বাসিন্দা মো. ফারুক (২৮), শেরপুরের ঝিনাইগাতী এলাকার আলামিন (৩১), নোয়াখালীর মাইজদী এলাকার সাকিবুল হোসেন ওরফে শাকিব (১৯), ঢাকার দোহার এলাকার শিহাব (২৭) এবং নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ এলাকার মিনহাজ মাসুম (২৮)।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফারুক ছাত্রলীগের সদস্য এবং আলামিন সংগঠনটির সক্রিয় সদস্য। সাকিবুল হোসেন ৫১ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সহসভাপতি এবং মিনহাজ মাসুম গাজীপুর মহানগর ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য। গ্রেপ্তার শিহাবের কোনো সাংগঠনিক পদ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ কোনো তথ্য দেয়নি।

অন্যদিকে, টঙ্গী পূর্ব থানার মরকুন মাস্টারপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. মতিনকে (৪৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধেও প্রচলিত আইনে মামলা করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাকসুদুল আলম বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে এবং তাঁদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করছে। নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

পুলিশ জানিয়েছে, টঙ্গী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এদিকে, থানার অভ্যন্তরে রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়ার ঘটনা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের ধারণ করা ভিডিও মুছে দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র আরও পরিষ্কার হবে।

Tags :

সামিউর রহমান রাতুল | সাব-এডিটর । GLive24.com

https://glive24.com/

সর্বশেষ খবর