২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার মাথাবিহীন লাশ মামলায়

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় মাথাবিচ্ছিন্ন এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধারের ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দুই প্রধান সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। গোয়েন্দা তৎপরতা, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির মাধ্যমে বরিশাল নগরীর পৃথক দুটি স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন সম্রাট (৩৪) এবং আবেদীন মাঝি (৪২), যিনি স্থানীয়ভাবে রাজু নামেও পরিচিত।

র‌্যাবের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নিহত গোপাল চন্দ্র দাসকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ব্যক্তিগত বিরোধ ও পুরোনো শত্রুতার জেরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ঘটনার সূত্র খুঁজতে গিয়ে আশপাশের এলাকার বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়। ওই ফুটেজে একটি মোটরসাইকেলে তিনজন ব্যক্তিকে একটি ইটভাটার ভেতরে প্রবেশ করতে দেখা যায়। কিছু সময় পর একই মোটরসাইকেল থেকে মাত্র দুজনকে বের হয়ে যেতে দেখা যায়।

পরে বিস্তারিত বিশ্লেষণ ও তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে মোটরসাইকেলে থাকা তিনজনের মধ্যে একজন নিহত গোপাল চন্দ্র দাস এবং অপর দুইজন সম্রাট ও আবেদীন মাঝি বলে শনাক্ত করা হয়। এ তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব তাদের গতিবিধির ওপর নজরদারি শুরু করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান পরিচালনা করে।

শনিবার দুপুরে বরিশাল বিমানবন্দর থানার কাশিপুর চৌমাথা এলাকার গণপাড়া থেকে সম্রাটকে আটক করা হয়। একই দিন সন্ধ্যায় বরিশাল কোতোয়ালি থানার স্টিমারঘাট এলাকা থেকে আবেদীন মাঝি ওরফে রাজুকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিজেদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে বলে র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে।

র‌্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, পূর্বের ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে অভিযুক্তরা গোপাল চন্দ্র দাসকে মোটরসাইকেলে করে নির্জন একটি ইটভাটায় নিয়ে যায়। সেখানে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করার পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। পরবর্তীতে হত্যার আলামত নষ্ট করতে বিচ্ছিন্ন মাথাটি নিকটবর্তী সন্ধ্যা নদীতে ফেলে দেওয়া হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি হাতুড়ি এবং একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে। তদন্তকারীদের মতে, উদ্ধার হওয়া এসব আলামত মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে সহায়ক হবে।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নেছারাবাদ উপজেলার সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের পূর্ব সারেংকাঠি গ্রামের মামুন মোল্লার মালিকানাধীন একটি ইটভাটার দক্ষিণ পাশে সন্ধ্যা নদীর তীর থেকে স্থানীয়রা একটি মাথাবিচ্ছিন্ন লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। পরে পরিবারের সদস্যরা লাশটি গোপাল চন্দ্র দাসের বলে শনাক্ত করেন।

ঘটনার পর নেছারাবাদ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামিকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে নেছারাবাদ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ হত্যাকাণ্ডে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ঘটনার পেছনের প্রকৃত উদ্দেশ্য উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা দ্রুত বিচার এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংক্ষেপে

বিষয়তথ্য
নিহত ব্যক্তিগোপাল চন্দ্র দাস
গ্রেপ্তারসম্রাট (৩৪), আবেদীন মাঝি ওরফে রাজু (৪২)
গ্রেপ্তারের স্থানবরিশাল (কাশিপুর চৌমাথা ও স্টিমারঘাট)
লাশ উদ্ধারের স্থানপূর্ব সারেংকাঠি, নেছারাবাদ
ঘটনার তারিখ১৩ মার্চ
উদ্ধার করা আলামতহাতুড়ি ও মোটরসাইকেল
সম্ভাব্য কারণপূর্ব শত্রুতা
মামলানেছারাবাদ থানায় হত্যা মামলা

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সম্ভাব্য অন্যান্য জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।