নিখোঁজের একদিন পর ছাদে শিশুর মরদেহ

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর আবদুর রহমান নামে ছয় বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ প্রতিবেশীর নির্মাণাধীন বাড়ির ছাদ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে রোববার সকালে উপজেলার মরজাল ইউনিয়নের চর-মরজাল গ্রামে। ঘটনায় এলাকায় চরম শোক উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবিতে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার ঝড় উঠেছে।

নিহত আবদুর রহমান উপজেলার মরজাল ইউনিয়নের চরমরজাল গ্রামের বাসিন্দা মালয়েশিয়া প্রবাসী শক্কুর আলীর ছেলে। তার বয়স ছিল মাত্র ছয় বছর। পরিবারের সদস্যরা জানান, আবদুর রহমান স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শ্রেণিতে পড়াশোনা করত এবং সবার কাছে অত্যন্ত শান্ত ভদ্র স্বভাবের শিশু হিসেবে পরিচিত ছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে আবদুর রহমান মায়ের কাছ থেকে কিছু টাকা নিয়ে পাশের একটি দোকান থেকে খাবার কিনে খায়। এরপর বাড়ির বাইরে খেলতে বের হলে আর বাড়িতে ফিরে আসেনি। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে আশপাশের বাড়িঘর, আত্মীয়স্বজন গ্রামের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় খোঁজার পরও শিশুটির কোনো সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারটি গভীর উদ্বেগে পড়ে।

পরিস্থিতি গুরুতর মনে হওয়ায় ওইদিন রাতেই আবদুর রহমানের পরিবারের পক্ষ থেকে রায়পুরা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। এরপর পুলিশ স্থানীয় লোকজন মিলে শিশুটিকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যান। তবে শনিবার দিনভর এবং রাত পর্যন্ত কোনো সূত্র পাওয়া যায়নি।

রোববার সকাল প্রায় দশটার দিকে প্রতিবেশী ইদ্রিস মিয়া তার নির্মাণাধীন বাড়ির ছাদে পানি দিতে গেলে সেখানে একটি শিশুর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। কাছে গিয়ে তিনি নিশ্চিত হন সেটি আবদুর রহমানের মরদেহ। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে তিনি আশপাশের মানুষ এবং শিশুটির পরিবারকে জানান। খবর ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাস্থলে বহু মানুষ জড়ো হন।

পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে এবং প্রয়োজনীয় প্রাথমিক তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। পুলিশের উপস্থিতিতে ঘটনাস্থলের চারপাশ পরীক্ষা করা হয় এবং সম্ভাব্য বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়।

শিশুটির মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তার ছেলে শনিবার সকাল থেকেই নিখোঁজ ছিল। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি। রোববার সকালে প্রতিবেশীর ছাদে তার মরদেহ পাওয়া যায়। তিনি দাবি করেন, তাদের পরিবারের সঙ্গে কারও কোনো শত্রুতা নেই। তিনি তার সন্তানের হত্যার সঠিক বিচার চান।

রায়পুরা থানার তদন্ত দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা প্রবীর কুমার ঘোষ জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে শিশুটির গলায় আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণের জন্য বিস্তারিত তদন্ত এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি আরও জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনের জন্য পুলিশ বিভিন্ন দিক বিবেচনায় রেখে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

ঘটনার প্রাথমিক তথ্যসমূহ নিচের সারণিতে উপস্থাপন করা হলো—

বিষয়তথ্য
শিশুর নামআবদুর রহমান
বয়সবছর
পিতার নামশক্কুর আলী
পেশাপ্রবাসী (মালয়েশিয়া)
ঠিকানাচর-মরজাল গ্রাম, মরজাল ইউনিয়ন, রায়পুরা
নিখোঁজ হওয়ার সময়শনিবার সকাল
মরদেহ উদ্ধারের সময়রোববার সকাল প্রায় ১০টা
মরদেহ উদ্ধারের স্থানপ্রতিবেশীর নির্মাণাধীন বাড়ির ছাদ
প্রাথমিক আলামতগলায় আঘাতের চিহ্ন

ঘটনায় পুরো গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ হলে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।