ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর ফাজিলপুর এলাকায় একটি নিয়ন্ত্রণহীন বাসকে পাশ কাটাতে গিয়ে প্রায় ২১ টন স্ক্র্যাপ ও লোহার মালামাল বোঝায় একটি কাভার্ড ভ্যান ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে ঘটা এই দুর্ঘটনায় গাড়িটির ভেতরে দীর্ঘ চার ঘণ্টা আটকে থাকার পর মো. শামীম নামের এক তরুণ চালককে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা।
ভোরের দিকে মহাসড়কের ফাজিলপুরের খাইয়ারা সংলগ্ন জেনিথ পাম্পের বিপরীত এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ‘রহিম ইন্ডাস্ট্রিজ’-এর ২১ টন লোহার মালামাল নিয়ে কাভার্ড ভ্যানটি রাজধানীর কাঁচপুরের দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে একটি দ্রুতগতির যাত্রীবাহী বাস হঠাৎ সামনে চলে এলে চালক মো. শামীম আকস্মিকভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এর ফলে ভারী যানটি সড়কের পাশে সজোরে উলটে যায়। গাড়িটির কেবিন অংশ পুরোপুরি দুমড়েমুচড়ে যাওয়ায় চালকের সহকারী কোনোমতে বেরিয়ে আসতে পারলেও চালক শামীম ভেতরে আটকা পড়েন।
এদিকে মহাসড়কে নিয়মিত টহল দেওয়ার সময় হাইওয়ে পুলিশের একটি দল উলটে যাওয়া কাভার্ড ভ্যানটি দেখতে পায়। কাছে যেতেই তারা ভেতর থেকে চালকের আর্তনাদ শুনতে পান। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ফেনী সদর ফায়ার স্টেশনে খবর পাঠায়। খবর পেয়ে ফেনী সদর ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. আবদুল্লাহ হারুন পাশার নেতৃত্বে উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে।
কাভার্ড ভ্যানে থাকা ২১ টন ভারী লোহার মালামালের চাপে কেবিনের গঠন পুরোপুরি ভেঙে যাওয়ায় উদ্ধার কাজ অত্যন্ত দুরূহ ছিল। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বিশেষ সরঞ্জাম ব্যবহার করে চার ঘণ্টার দীর্ঘ ও নিবিড় চেষ্টার পর সকাল ৯টার দিকে চালক শামীমকে অক্ষত অবস্থায় বের করে আনতে সমর্থ হন। পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার ইদ্রিস আকনের ছেলে শামীমকে উদ্ধারের পরপরই উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ফাজিলপুর হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক এম. এ. ইমরান হোসেন জানান, দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশের সময়োপযোগী পদক্ষেপ এবং ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত সাড়ার কারণে একটি বড় ধরণের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং দুর্ঘটনাকবলিত কাভার্ড ভ্যানটি সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।










