শরীয়তপুর শহরের ধানুকা এলাকায় সড়ক পার হওয়ার সময় মিনিবাসের ধাক্কায় রতন পোদ্দার (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। রাস্তা পার হওয়ার আগে দুই হাত উঁচু করে তিনি যানবাহন থামানোর চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর ইশারায় কয়েকটি যানবাহন থামলেও একটি মিনিবাস থামেনি। সেটি সামনে এগিয়ে এসে রতনকে সজোরে ধাক্কা দিলে তিনি ছিটকে মহাসড়কে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
বুধবার সন্ধ্যার পর শরীয়তপুর-মাদারীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের ধানুকা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর ঘটনাটির ১৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, মহাসড়কের এক পাশে দাঁড়িয়ে রতন দুই হাত উঁচু করে চলন্ত যানবাহন থামানোর চেষ্টা করছেন। কয়েকটি যানবাহন তাঁর সংকেত মেনে থামলেও একটি মিনিবাস থামেনি। সেটি তাঁকে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যায় ব্যক্তিগত কাজে ধানুকা এলাকায় গিয়েছিলেন রতন। কাজ শেষে মহাসড়ক পার হওয়ার সময় তিনি দুই হাত তুলে যানবাহন থামানোর চেষ্টা করেন। কয়েকটি গাড়ি থামার পর তিনি রাস্তা পার হওয়ার উদ্যোগ নেন। এ সময় শরীয়তপুর আন্তজেলা বাস মালিক সমিতির একটি মিনিবাস সামনে এগিয়ে এসে তাঁকে ধাক্কা দেয়। আঘাতের পর রতন ছিটকে সড়কের ওপর পড়ে যান। তাঁর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে।
দুর্ঘটনার পর মিনিবাসটি ঘটনাস্থলে না থেমে দ্রুত চলে যায়। স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় রতনকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে তাঁকে ঢাকার উদ্দেশে নেওয়া হয়। তবে রাত নয়টার দিকে পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় কয়েকজন মিনিবাসটির পিছু ধাওয়া করেন। একপর্যায়ে চালকসহ বাসটি আটক করে তাঁরা পুলিশকে খবর দেন। পরে চালককে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত মিনিবাসটিও জব্দ করেছে পুলিশ।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, দুর্ঘটনার পর বাসটি জব্দ করা হয়েছে এবং চালককে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিহত রতন পোদ্দার শরীয়তপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ মধ্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা। বাড়ির সামনে চায়ের দোকান চালিয়ে তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন। তাঁর মা যুগল বালা পোদ্দার ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা।
রতনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে তাঁর পারিবারিক পরিস্থিতি প্রতিবেশীদের আরও বেশি নাড়া দিয়েছে। প্রতিবেশী শ্যামল সাহা জানান, প্রায় এক মাস আগে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে রতনের স্ত্রী মারা যান। স্ত্রীর মৃত্যুর পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তাঁদের দুই সন্তান রয়েছে।
স্ত্রীর মৃত্যুর শোক সামলে দুই সন্তানকে নিয়ে জীবন চালিয়ে যাচ্ছিলেন রতন। বাড়ির সামনে ছোট চায়ের দোকানটিই ছিল তাঁর আয়ের প্রধান অবলম্বন। এর মধ্যেই সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যুতে পরিবারটি আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে।
ঘটনাটি আবারও ব্যস্ত আঞ্চলিক মহাসড়কে পথচারী ও যানবাহনের নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনেছে। সড়ক পার হওয়ার সময় পথচারীর সংকেত দেখা, গতি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজন হলে গাড়ি থামানো চালকদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। একই সঙ্গে পথচারীদের জন্য নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা থাকাও জরুরি। ধানুকার এই দুর্ঘটনায় রতনের শেষ মুহূর্তের ১৭ সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় ঘটনাটি স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।










