নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ত্রাস সৃষ্টি করা আলোচিত হত্যা মামলার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি এবং তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী কালাই সবুজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই অভিযানে তার সঙ্গে থাকা এক সহযোগীকেও আটক করা হয়েছে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও সাত রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করেছে, যা তাদের অপরাধমূলক কার্যক্রমের গভীরতা স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
বুধবার রাতে রাজধানী ঢাকার ডেমরার কোণাপাড়া এবং রূপগঞ্জের রূপসী এলাকায় পৃথক ও সুনির্দিষ্ট অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার সকালে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আসামিদের নারায়ণগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এই গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে এলাকার একটি দীর্ঘদিনের অপরাধ চক্রের মূলোৎপাটন করা সম্ভব হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত কালাই সবুজ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ব্রাহ্মণগাঁও এলাকার বাসিন্দা। তার সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া সহযোগী এজাজুল হক একই উপজেলার ভুলতা মাঝিপাড়া এলাকার বাসিন্দা। এই দুই অপরাধীর গ্রেপ্তার এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরাজমান আতঙ্ক কিছুটা হলেও কমিয়ে এনেছে।
রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ এএইচএম সালাউদ্দিন সংবাদমাধ্যমকে জানান, কালাই সবুজ দীর্ঘদিন ধরে রূপগঞ্জ এবং এর আশপাশের এলাকায় অপহরণ, ডাকাতি ও হত্যাসহ নানা মারাত্মক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। অপরাধজগতে তার প্রভাব এতটাই বিস্তার লাভ করেছিল যে সাধারণ মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পেত না। পুলিশি রেকর্ড ঘেঁটে জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মোট ২৬টি গুরুতর মামলা রয়েছে, যার মধ্যে সাতটি কেবল হত্যা মামলা। এর মধ্যে একটি হত্যা মামলায় আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন এবং তখন থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে তিনি মূলত ছদ্মবেশ ধারণ করতেন এবং সুযোগ বুঝে এলাকায় এসে আকস্মিক অপরাধ সংঘটিত করেই আবার দ্রুত নিরাপদে আত্মগোপনে চলে যেতেন।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, সুনির্দিষ্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার রাতে রূপগঞ্জ থানা পুলিশের একটি চৌকস দল ডেমরার কোণাপাড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায়। সেখানে ঘেরাও করে অস্ত্র ও গুলিসহ কালাই সবুজকে হাতেনাতে ধরে ফেলে পুলিশ। পরবর্তীতে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে ওই রাতেই রূপগঞ্জের রূপসী এলাকা থেকে তার সহযোগী এজাজুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে সহযোগী এজাজুলের বিরুদ্ধেও রূপগঞ্জ থানায় একাধিক অপরাধমূলক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই সফল অভিযানের ফলে এলাকার অপরাধপ্রবণতা অনেকাংশে হ্রাস পাবে বলে স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করছেন।










