মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের দানিস্তনগর গ্রামে অভিযান চালিয়ে দুই কেজি গাঁজাসহ আশিক (২৭) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল সোয়া ২টার দিকে তাঁর নিজ দখলে থাকা বসতঘরে এ অভিযান চালানো হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, মানিকগঞ্জের উপপরিচালক হুমায়ুন কবির খন্দকারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অভিযানটি পরিচালিত হয়। উপপরিদর্শক মো. জামাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল এতে অংশ নেয়।
অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বা নির্দিষ্ট তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে—এমন কোনো বিস্তারিত বিবরণ অভিযানের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। তবে নির্ধারিত সময়ে কর্মকর্তারা কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের দানিস্তনগর গ্রামের ওই বাড়িতে অভিযান চালান। তল্লাশির একপর্যায়ে আশিকের কাছ থেকে মোট দুই কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার আশিক দানিস্তনগর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম মতিন শিকদার। তিনি কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং মানিকগঞ্জ সদর থানার আওতাধীন এলাকার বাসিন্দা হিসেবে অভিযানের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযানের পর আশিকের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে। তবে মামলার নম্বর, কোন কোন ধারায় মামলা করা হয়েছে এবং তাঁকে আদালতে পাঠানোর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের বরাত দিয়ে অধিদপ্তর জানিয়েছে, আশিক দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য বা আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই যাচাই হওয়ার কথা।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানের ক্ষেত্রে উদ্ধার হওয়া মাদকের পরিমাণ, ধরন এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তথ্য পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এ ক্ষেত্রেও দুই কেজি গাঁজা উদ্ধারের বিষয়টি মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। এখন তদন্তের মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া মাদকের উৎস, এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না এবং এটি সংরক্ষণ বা বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হবে বলে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া থেকে ধারণা পাওয়া যায়। তবে এসব বিষয়ে তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ছাড়া নিশ্চিত কোনো তথ্য বলা যাচ্ছে না।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, অভিযানের সময় দুই কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে এবং আশিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এ ঘটনায় এখন মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আদালত-প্রক্রিয়ার দিকে নজর থাকবে। অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা শেষ পর্যন্ত তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে।









