জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে বিএনপি নেতাসহ গ্রেপ্তার ৪

পিরোজপুরে জাতীয় গ্রিডের সাবস্টেশন নির্মাণ প্রকল্পে চাঁদা দাবির অভিযোগে বিএনপির এক নেতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (৩০ আগস্ট) পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে একজনকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে এবং অপর তিনজনকে পিরোজপুরের কদমতলা এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন কদমতলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুস সালাম শেখ, কদমতলা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি হাসিব শেখ (২৭), ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজু শেখ (৩২) এবং ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সাবেক সভাপতি আশরাফুল ইসলাম।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-পিরোজপুর মহাসড়কের পাশে জাতীয় গ্রিডের একটি সাবস্টেশন নির্মাণের কাজ চলছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে রিংটেক লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। নির্মাণকাজের অংশ হিসেবে নদী থেকে বালু উত্তোলন করে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রকল্প এলাকায় নিয়ে ভরাট করা হচ্ছে। এই কাজের দায়িত্বে রয়েছে তাহসিন এন্টারপ্রাইজ। প্রতিষ্ঠানটির হয়ে কাজটি পরিচালনা করছেন পিরোজপুর শহরের কুমারখালী এলাকার মো. জাকির হোসেন।

মামলার এজাহারে জাকির হোসেন অভিযোগ করেন, গত ১৩ আগস্ট থেকে তিনি প্রকল্প এলাকায় পাইপলাইনের মাধ্যমে বালু ভরাটের কাজ শুরু করেন। কাজ শুরুর পর কদমতলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সালাম শেখ তাকে ওই ব্যবসায় অংশীদার করার জন্য চাপ দেন। এতে তিনি রাজি না হওয়ায় প্রতি ঘনফুট বালু ভরাটের বিপরীতে এক টাকা করে চাঁদা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

জাকিরের দাবি, বালু ভরাটের কাজ শুরুর আগেই সালাম শেখ তার কাছে প্রায় ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। পাশাপাশি কদমতলা ইউনিয়নের বাইরে থেকে শ্রমিক এনে কাজ করানো যাবে না এবং স্থানীয় লোকজনকে দিয়েই কাজ করাতে হবে—এমন কথাও বলা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দেওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। এর কয়েক দিন পর, ২৬ আগস্ট ভোররাতে দুর্বৃত্তরা প্রকল্প এলাকায় গিয়ে বালু পরিবহনের পাইপলাইন ভেঙে দেয়। এতে প্রায় এক থেকে দেড় কিলোমিটার পাইপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মামলার তথ্য অনুযায়ী, এতে আনুমানিক দেড় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। পরে ক্ষতিগ্রস্ত পাইপ মেরামত করে আবার বালু ভরাটের কাজ শুরু করা হয়।

এ ঘটনায় ৩০ আগস্ট পিরোজপুর শহরের কুমারখালী এলাকার বাসিন্দা মো. জাকির হোসেন বাদী হয়ে পিরোজপুর সদর থানায় মামলা করেন। মামলায় চাঁদা দাবি ও প্রকল্পের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

তবে গ্রেপ্তারের আগে গত ২৮ আগস্ট মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে আব্দুস সালাম শেখ অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, তিনি কোনো চাঁদা চাননি। স্থানীয় কয়েকজন তরুণ চা-পানির খরচের জন্য টাকা চেয়েছিল এবং পরে তিনি বিষয়টি মীমাংসা করে দিয়েছিলেন। তখন তিনি ঢাকায় অবস্থান করছিলেন বলেও জানান। প্রকল্পের পাইপ ভাঙার ঘটনা সম্পর্কেও তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম চারজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, চাঁদাবাজির মামলায় সালাম শেখকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে এবং অপর তিনজনকে কদমতলা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, সালাম শেখ ছাড়া গ্রেপ্তার অপর তিনজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সালাম শেখকে পিরোজপুরে নিয়ে আসার পর সোমবার আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।

জাতীয় গ্রিডের অবকাঠামো নির্মাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে কাজের নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা নিয়ে এ ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে মামলায় করা অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি আদালতেই হবে।

Tags :

সামিউর রহমান রাতুল | সাব-এডিটর । জিলাইভ বাংলা

https://glive24.com/

সর্বশেষ খবর