রাজধানীর কয়েকটি বিদেশি দূতাবাসে ই-মেইলের মাধ্যমে হুমকি পাঠানোর ঘটনায় গুলশান ও বারিধারাসহ কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। দূতাবাস ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সামনে বাড়ানো হয়েছে পুলিশি নজরদারি। পাশাপাশি পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, হুমকির বিষয়টি জানার পর কূটনৈতিক এলাকার বিভিন্ন প্রবেশপথে তল্লাশি ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নিয়মিত টহলের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে পুলিশের দ্রুত প্রতিক্রিয়া দলও।
ঢাকা মহানগর পুলিশের কূটনৈতিক নিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার আবু খায়ের জানান, এ ঘটনায় পুলিশের কাছে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। চীনা দূতাবাস কর্তৃপক্ষ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পুলিশ সদর দপ্তরকে বিষয়টি জানিয়েছে। পরে পুলিশ সদর দপ্তরের মাধ্যমে ঢাকা মহানগর পুলিশের সন্ত্রাসবিরোধী ও আন্তর্দেশীয় অপরাধ দমন শাখা বিষয়টি তদন্তে যুক্ত হয়।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, হুমকির খবর পাওয়ার পর আগের তুলনায় কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে দূতাবাসগুলোর সামনে নজরদারি, বিভিন্ন চেকপোস্টে তল্লাশি এবং নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি দ্রুত প্রতিক্রিয়া দলগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে প্রয়োজন হলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো যায়।
তবে এ ঘটনায় সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা এমনিতেই জোরদার থাকে। সাম্প্রতিক হুমকির পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সেখানে অতিরিক্ত নজরদারি ও সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
হুমকির উৎস, উদ্দেশ্য এবং কোন কোন দূতাবাসে ই-মেইল পাঠানো হয়েছে—এসব বিষয়ে পুলিশ এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, তাদের কাছে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো লিখিত অভিযোগ বা তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়া হয়নি। তদন্তের মাধ্যমে ই-মেইলগুলোর উৎস এবং এর পেছনে কারা রয়েছে, তা শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহের শেষ দিকে বাংলাদেশে অবস্থিত একাধিক বিদেশি দূতাবাসে ই-মেইলের মাধ্যমে হুমকি পাঠানো হয়। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে সন্ত্রাসবিরোধী ও আন্তর্দেশীয় অপরাধ দমন শাখার কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলোর প্রতিনিধিদের বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, আতঙ্ক সৃষ্টি বা অস্থিরতা তৈরির উদ্দেশ্যে কোনো গোষ্ঠী এসব ই-মেইল পাঠিয়ে থাকতে পারে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে হুমকির পেছনে থাকা ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
এদিকে হুমকির ঘটনায় গুলশান থানায় এখন পর্যন্ত কোনো সাধারণ ডায়েরি বা লিখিত অভিযোগ করা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। ফলে তদন্তকারীরা দূতাবাসগুলোর মাধ্যমে পাওয়া তথ্য, ই-মেইলের বিষয়বস্তু এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও হুমকিদাতাদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন।
কূটনৈতিক এলাকায় বিদেশি দূতাবাস, কূটনীতিকদের বাসভবন ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থাকায় এসব এলাকায় নিয়মিতভাবেই বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর থাকে। নতুন করে হুমকির ঘটনা সামনে আসার পর সেই নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর আরও জোর দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।









