নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার বাংলাবাজারে মুখোশ পরা একদল অস্ত্রধারীর এলোপাতাড়ি গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় স্কুলশিক্ষকসহ তিনজন আহত হয়েছেন। শনিবার (২২ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে জিরতলী ইউনিয়নের এই বাজারে হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের ভাষ্য, হামলাকারীদের সংখ্যা ১০ থেকে ১২ জন। তারা সবাই মুখোশ পরা ছিল।
আহত তিনজন হলেন শামসুন্নাহার উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক রাজিবুজ্জামান (৫৬), দোকান কর্মচারী মো. সাকিব (১৭) এবং মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন (১৮)। তাঁদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছররা গুলি ও বিস্ফোরণের স্প্লিন্টারের আঘাত লেগেছে।
আহত সাকিব ও নাজিমকে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শিক্ষক রাজিবুজ্জামানকে বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে তাঁর স্বজনেরা জানিয়েছেন।
Table of Contents
হঠাৎ বিস্ফোরণ, এরপর গুলিবর্ষণ
স্থানীয় বাসিন্দাদের বর্ণনা অনুযায়ী, রাত সাড়ে ১০টার দিকে মুখোশধারী অস্ত্রধারীদের একটি দল বাংলাবাজারের পূর্ব পাশের গলি দিয়ে নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুর প্রধান সড়কের দিকে আসে। বাজার এলাকায় পৌঁছানোর পর তারা কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। পরপর বিস্ফোরণের শব্দে বাজারে থাকা ব্যবসায়ী, পথচারী ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এরপর অস্ত্রধারীরা আশপাশে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে। তখন বাজার ও প্রধান সড়ক দিয়ে যাতায়াত করা মানুষজন নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছোটাছুটি শুরু করেন। গুলির ছররা এসে লাগে রাজিবুজ্জামান, সাকিব ও নাজিমের শরীরে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, হামলাকারীরা কিছুক্ষণ গুলি ও বিস্ফোরণ ঘটানোর পর দ্রুত ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যায়। তবে তাদের পরিচয় বা হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
আহত শিক্ষকের শরীরে একাধিক ছররা
শিক্ষক রাজিবুজ্জামানের শ্যালক মো. সুমন জানান, তাঁর পিঠ, হাত ও বুকে কয়েকটি ছররা গুলি লেগেছে। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকায় বাড়িতেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
বাজারের ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, অস্ত্রধারীরা তাঁর দোকানের সামনেও দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীদের সবার মুখে মুখোশ ছিল। বিস্ফোরণের পর তারা এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে ছুড়তে সেখান থেকে চলে যায়।
হাসপাতালে ভর্তি দুই তরুণ
নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা রাজিব উদ্দিন চৌধুরী জানান, রাত প্রায় একটার দিকে বেগমগঞ্জ উপজেলা থেকে ছররা গুলিতে আহত সাকিব ও নাজিম হাসপাতালে আসেন। তাঁদের শরীরে গুলির আঘাত থাকায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অন্যদিকে শিক্ষক রাজিবুজ্জামানের চিকিৎসা বাড়িতেই চলছে। তাঁর স্বজনেরা জানিয়েছেন, শরীরে একাধিক ছররা লাগলেও আপাতত তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল।
ঘটনাস্থলে পুলিশ, চলছে শনাক্তের চেষ্টা
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শামসুজ্জামান জানান, ছররা গুলি ও বিস্ফোরণের স্প্লিন্টারের আঘাতে তিনজন আহত হয়েছেন বলে তাঁরা তথ্য পেয়েছেন।
ওসি বলেন, হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। আহত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নেওয়া হবে। হামলাকারীরা কী উদ্দেশ্যে সেখানে এসেছিল, তাদের পরিচয় কী এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আতঙ্কে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা
হামলার পর বাংলাবাজার ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। একটি ব্যস্ত বাজারে ককটেল বিস্ফোরণের পর প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণের ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে হামলাকারীরা মুখোশ পরা থাকায় তাদের শনাক্ত করা পুলিশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে এখন পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে হামলায় জড়িত কোনো ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। একইভাবে হামলার সম্ভাব্য কারণ বা উদ্দেশ্য সম্পর্কেও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং হামলাকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করতে আহতদের বক্তব্য, প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য ও ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।









