জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

বড়লেখায় গ্রেপ্তার ছাত্রলীগ নেত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় জান্নাতুল ফেরদৌস চৌধুরী নামের এক ছাত্রলীগ নেত্রীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত রোববার বিকেলে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। কুলাউড়া উপজেলার নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে আটক করার পর বড়লেখা থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জান্নাতুল ফেরদৌস নিজ বাড়ির পাশের ভাতাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন। সেখানে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি জাতীয় পতাকার সঙ্গে কালো পতাকা উত্তোলন করেন তিনি। ওই পুরো কর্মসূচির ছবি ও ভিডিও ধারণ করে তিনি নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রচার করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই পোস্ট ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে এবং পুলিশ দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
শনিবার রাতেই তাঁকে বড়লেখা থানায় নিয়ে আসা হয়। এরপর গত রোববার বিকেলে তাঁকে বড়লেখা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। উভয় পক্ষের শুনানির পর বিচারক তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন এবং তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গ্রেফতারকৃত জান্নাতুল ফেরদৌস চৌধুরী কুলাউড়া উপজেলার ভাতাইয়া গ্রামের মৃত আব্দুল মুসাব্বির চৌধুরীর মেয়ে। ব্যক্তিগত পরিচয়ে তিনি কুলাউড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এবং উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী ফাতেহা ফেরদৌস চৌধুরী পপির ছোট বোন। রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে তাঁর পরিবার পরিচিত হলেও সাম্প্রতিক এই ঘটনার জেরে এলাকায় নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এই গ্রেফতারের পেছনে পূর্বের একটি ঘটনার শক্তিশালী যোগসূত্র রয়েছে। গত বছরের অর্থাৎ ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল রাতে বড়লেখা পৌর শহরের উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সামনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কিছু নেতা-কর্মী একটি ঝটিকা মিছিল বের করেছিলেন। সেই মিছিল থেকে বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সীমানা দেয়ালে রাজনৈতিক নানা স্লোগান লিখে সিলগালা করা হয়। ওই ঘটনার পরদিন অর্থাৎ ১২ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে পুলিশ বাদী হয়ে বড়লেখা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করে। সেই মামলায় ১৫ জন নেতা-কর্মীকে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৪০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ ওই মিছিলে অংশগ্রহণ এবং দেয়াল লিখনের সঙ্গে জান্নাতুল ফেরদৌসের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার প্রমাণ পায়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বড়লেখা থানার তদন্ত কর্মকর্তা ওবায়দুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান যে, পূর্বের সেই ঝটিকা মিছিল ও দেয়াল লিখনের মামলায় জান্নাতুল ফেরদৌসের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। সেই সুনির্দিষ্ট মামলায় তাঁকে গ্রেফতার দেখিয়ে রোববার বিকেলে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছিল। আদালতের নির্দেশে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জেলা প্রতিনিধি
Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর