টঙ্গীতে বাবা-ছেলে হত্যায় মামলা তদন্ত

গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় বাবা ও ছেলেকে হত্যার মর্মান্তিক ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে এই মামলা করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে এবং বিভিন্ন দিক থেকে তদন্ত এগিয়ে চলছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় সূত্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, গত রবিবার ভোরে টঙ্গীর বনমালা এলাকার একটি বসতঘর এবং তার পাশের রেললাইনের কাছ থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন মো. সোহেল (৪৮) এবং তার ছোট ছেলে সাকিবুর রহমান শোয়েব (১৭)। শোয়েব একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন এবং পাশাপাশি ঢাকার একটি দোকানে কর্মরত ছিলেন।

নিহত সোহেলের বোন শিরিন সুলতানা বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় এখনো কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে আসামি করা হয়নি। তবে পরিবারের বড় ছেলে সাইফুর রহমান সোহান (২৭)-কে সন্দেহভাজন হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ জানায়, নিহত শোয়েবের মরদেহ ঘরের ভেতরে পাওয়া যায়। তার শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। এছাড়া তার মুখে কাপড় গুঁজে রাখা ছিল এবং দুই হাতের কব্জির কাছে আঘাতজনিত ক্ষতচিহ্ন পাওয়া যায়। অন্যদিকে, তার বাবা সোহেলের মরদেহ রেললাইনের পাশে পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হলেও তিনি ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যাননি; বরং তার শরীরেও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা হত্যার সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে।

নিচে ঘটনাটির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—

বিষয়তথ্য
নিহত ব্যক্তিমো. সোহেল (৪৮)
দ্বিতীয় নিহতসাকিবুর রহমান শোয়েব (১৭)
ঘটনার স্থানটঙ্গী, বনমালা এলাকা
মরদেহ উদ্ধারের সময়রবিবার ভোর
মামলার বাদীনিহতের বোন শিরিন সুলতানা
মামলার ধরনঅজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা
সন্দেহভাজনসাইফুর রহমান সোহান (২৭)
তদন্ত কার্যক্রমজিজ্ঞাসাবাদ ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ চলমান

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত সোহেল দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছিলেন। তিনি পূর্বে বিদেশে কর্মরত ছিলেন এবং পরে দেশে ফিরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তার স্ত্রী প্রায় দেড় বছর আগে মারা যান। এরপর তিনি দুই ছেলেকে নিয়ে বসবাস করতেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ঘটনাস্থলের আশপাশের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঘটনার আগের রাতে পরিবারের বড় ছেলে সাইফুর রহমান তার বাবাকে ঘর থেকে টেনে রেললাইনের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত আরও জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও একজন অজ্ঞাত ব্যক্তির সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রতিবেশীরা জানান, পরিবারটি সাধারণ জীবনযাপন করত এবং তাদের মধ্যে বড় ধরনের কোনো বিরোধের বিষয় আগে কখনো শোনা যায়নি। আকস্মিক এই হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার ফলাফল হাতে এলে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্ট হবে। তদন্তকারী দল আশা করছে, দ্রুত সময়ের মধ্যেই ঘটনার পূর্ণ রহস্য উদঘাটন সম্ভব হবে।