,

স্বামীর সঙ্গে ঘোরায় তরুণীকে অপহরণ, ধর্ষণের অভিযোগ

ভারতের কেরালার ত্রিসুরে স্বামীর সঙ্গে ঘোরাফেরা করাকে কেন্দ্র করে এক তরুণীকে অপহরণ ও গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, ওই নারী তাঁর স্বামীর অবস্থান মোবাইল ফোনের মাধ্যমে শনাক্ত করে কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে তাঁদের সহায়তায় তরুণী ও তাঁর সঙ্গে থাকা পুরুষকে জোর করে তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

এ ঘটনায় তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগে পাঁচজন এবং ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ওই পুরুষের স্ত্রীসহ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পুলিশ ও তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্যের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মাসে ওই তরুণী তাঁর এক বিবাহিত পুরুষ বন্ধুর সঙ্গে ত্রিসুরে ঘুরতে যান। তাঁরা একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন। সেখানে পাঁচ ব্যক্তি নিজেদের পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে তাঁদের কাছে যায়। এরপর ওই তরুণী ও তাঁর সঙ্গীকে বেঁধে একটি গাড়িতে তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

অভিযোগের বর্ণনা অনুযায়ী, ওই পুরুষকে একটি গাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর তাঁর ওপর মারধর চালানো হয়। নির্যাতনের একপর্যায়ে তাঁর হাত ও পা ভেঙে যায় বলে তদন্তে জানা গেছে। পরে তাঁকে তামিলনাড়ুর একটি হাসপাতালের বাইরে ফেলে রেখে যায় অভিযুক্তরা।

অন্যদিকে, তরুণীকে আলাদা একটি গাড়িতে করে নিয়ে যায় অভিযুক্তদের দুজন। পরে তাঁকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পুরো ঘটনায় অপহরণ, শারীরিক নির্যাতন এবং যৌন সহিংসতার অভিযোগ সামনে আসার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে।

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, ওই পুরুষের স্ত্রী তাঁর স্বামীর মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্ত করে তাঁর চলাফেরার তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন। স্বামীর সঙ্গে তরুণীর ঘোরাফেরার বিষয়টি জানার পর তিনি ক্ষুব্ধ হন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এরপর তিনি অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তাঁদের মাধ্যমে স্বামী ও তরুণীকে আটকের ব্যবস্থা করেন বলে অভিযোগ।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা পরিকল্পনা অনুযায়ী নিজেদের পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়েছিল। এরপর তাঁদের জোর করে গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। তবে এই পরিচয় দেওয়ার পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল এবং পুরো পরিকল্পনায় প্রত্যেকের ভূমিকা কতটা ছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ঘটনায় পাঁচ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ওই পুরুষের স্ত্রীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ফলে এখন পর্যন্ত মোট ছয়জন পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

তদন্তের ক্ষেত্রে তরুণী ও তাঁর সঙ্গীর বক্তব্য, তাঁদের চলাচলের তথ্য, অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয় এবং ঘটনার বিভিন্ন পর্যায়ের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। বিশেষ করে মোবাইল ফোনের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল এবং অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে কীভাবে ঘটনাটি ঘটানো হয়, তা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

তবে পুলিশের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ঘটনার প্রকৃত ধারাবাহিকতা, প্রত্যেক ব্যক্তির ভূমিকা এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগতভাবে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা তদন্ত ও পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

পুলিশ জানিয়েছে, পুরো ঘটনার বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।