দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ডলারসহ বিভিন্ন বিদেশি মুদ্রার দর নিয়ে আগ্রহ থাকে আমদানিকারক, রপ্তানিকারক, প্রবাসী পরিবার, বিদেশগামী শিক্ষার্থী ও ভ্রমণকারীদের মধ্যে। আন্তর্জাতিক লেনদেনের পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতের দৈনন্দিন কার্যক্রমেও এসব হারের গুরুত্ব রয়েছে। মুদ্রার দর পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে পারে আমদানি ব্যয়, বিদেশে অর্থ পাঠানো এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক লেনদেনের ওপর।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত আন্তব্যাংক তথ্য অনুযায়ী, ১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে মার্কিন ডলারের সর্বোচ্চ দর ছিল ১২৩ টাকা ২২ পয়সা। ওই দিন সর্বনিম্ন দর ছিল ১২৩ টাকা এবং ভারিত গড় হার দাঁড়ায় ১২৩ টাকা ১০ পয়সা। একই দিনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত স্পট রেফারেন্স রেট ছিল ১২৩ টাকা ০০২২ পয়সা।
তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই হারকে সাধারণ গ্রাহকের জন্য ব্যাংক বা মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানের চূড়ান্ত ক্রয়-বিক্রয় দর হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বাজারে লেনদেনের ধরন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত হার এবং অন্যান্য প্রযোজ্য খরচের কারণে গ্রাহক পর্যায়ে মুদ্রার প্রকৃত দর কিছুটা আলাদা হতে পারে।
বিভিন্ন মুদ্রার সর্বশেষ দর
বাংলাদেশ ব্যাংকের ১ অক্টোবরের প্রকাশিত ক্রস-রেট অনুযায়ী, প্রতি ইউরোর দর ছিল ১৩৯ টাকা ৩৩৪৪ পয়সা থেকে ১৩৯ টাকা ৬৩২৯ পয়সার মধ্যে। ব্রিটিশ পাউন্ডের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ১৬৩ টাকা ১৫৯৫ পয়সা থেকে ১৬৩ টাকা ৪৮৮৩ পয়সা।
অস্ট্রেলিয়ান ডলারের দর ছিল ৮৫ টাকা ৩৯৮৯ পয়সা থেকে ৮৫ টাকা ৬২৫৬ পয়সা। সিঙ্গাপুর ডলারের দর ছিল ৯৬ টাকা ২২৯১ পয়সা থেকে ৯৬ টাকা ৪৫৪০ পয়সা।
চীনা ইউয়ানের ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিটের দর ছিল ১৮ টাকা ৩৩৩০ পয়সা থেকে ১৮ টাকা ৩৬৭৫ পয়সা। ভারতীয় রুপির দর ছিল ১ টাকা ২৮১৪ পয়সা থেকে ১ টাকা ২৮৩৮ পয়সা। আর জাপানি ইয়েনের দর ছিল ৭৮ পয়সার সামান্য বেশি।
মুদ্রার দর এক নজরে
| মুদ্রা | ক্রয়/বিড দর (টাকা) | বিক্রয়/অ্যাস্ক দর (টাকা) |
|---|---|---|
| মার্কিন ডলার (USD) | ১২৩.০০ | ১২৩.২২ |
| ইউরো (EUR) | ১৩৯.৩৩৪৪ | ১৩৯.৬৩২৯ |
| ব্রিটিশ পাউন্ড (GBP) | ১৬৩.১৫৯৫ | ১৬৩.৪৮৮৩ |
| ভারতীয় রুপি (INR) | ১.২৮১৪ | ১.২৮৩৮ |
| অস্ট্রেলিয়ান ডলার (AUD) | ৮৫.৩৯৮৯ | ৮৫.৬২৫৬ |
| সিঙ্গাপুর ডলার (SGD) | ৯৬.২২৯১ | ৯৬.৪৫৪০ |
| চীনা ইউয়ান (CNH) | ১৮.৩৩৩০ | ১৮.৩৬৭৫ |
| জাপানি ইয়েন (JPY) | ০.৭৮১২ | ০.৭৮২৯ |
ডলারের বাজারে কী দেখা যাচ্ছে
বাংলাদেশ ব্যাংকের আন্তব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের তথ্য অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বর ডলারের সর্বোচ্চ দর ছিল ১২৩ টাকা ২২ পয়সা এবং সর্বনিম্ন দর ১২৩ টাকা। ওই দিনের ভারিত গড় দর ছিল ১২৩ টাকা ১০ পয়সা।
সেদিন আন্তব্যাংক বাজারে ২৩টি স্পট লেনদেনের মাধ্যমে মোট ৫৩ দশমিক ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের লেনদেন হয়। এর আগের কার্যদিবসগুলোতেও ডলারের দর কাছাকাছি পর্যায়ে ছিল। ২৯ সেপ্টেম্বর ভারিত গড় দর ছিল ১২৩ টাকা ৩ পয়সা। ২৮ সেপ্টেম্বর এই হার ছিল ১২২ টাকা ৮১ পয়সা।
অর্থাৎ সেপ্টেম্বরের শেষ কয়েকটি কার্যদিবসে আন্তব্যাংক বাজারে ডলারের ভারিত গড় দর ১২২ থেকে ১২৩ টাকার পরিসরেই ছিল। তবে বাজার পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলে এই হার দ্রুত বদলাতে পারে।
রেফারেন্স রেট আর গ্রাহকের দর এক নয়
মুদ্রা বিনিময়ের ক্ষেত্রে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত রেফারেন্স বা আন্তব্যাংক হার এবং সাধারণ গ্রাহকের জন্য প্রযোজ্য ব্যাংকিং হার এক জিনিস নয়। ব্যাংক বা অনুমোদিত মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠান নিজস্ব লেনদেনের ধরন ও বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে গ্রাহকের জন্য ক্রয় ও বিক্রয় হার নির্ধারণ করতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, স্পট রেফারেন্স রেট নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ মার্কিন ডলার বা তার বেশি মূল্যের স্পট বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের ভিত্তিতে লেনদেনভিত্তিক ভারিত গড় হিসাব করে। ফলে এই হারকে খুচরা পর্যায়ে প্রতিটি মুদ্রা কেনাবেচার সরাসরি মূল্য হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়।
এদিকে ৩ অক্টোবর ২০২৬ শনিবার হওয়ায় ওই দিনের নতুন আন্তব্যাংক লেনদেনের তথ্য প্রকাশিত হয়নি। তাই আজকের মুদ্রা বিনিময় হার হিসেবে সর্বশেষ প্রকাশিত কার্যদিবসের তথ্যই যাচাইকৃত ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এ কারণে ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা দরে ডলার কেনা এবং ১২২ টাকা ৮৫ পয়সা দরে বিক্রির যে হার দেওয়া হয়েছিল, সেটি বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। মুদ্রা কেনাবেচার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা অনুমোদিত মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানের হালনাগাদ হার যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।









