গাজীপুরের ডেগের চালা এলাকায় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়া অন্তত ৭০ জনকে উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। শনিবার বিকেলে ফকির মার্কেট এলাকার মেট্রিক্স গার্মেন্টসে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে অসুস্থ শ্রমিক ও কর্মীদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের নয়টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। তবে ঘটনাস্থলের আশপাশে পর্যাপ্ত পানির উৎস না থাকা এবং কারখানাটিতে নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকায় আগুন নেভানোর কাজে বেগ পেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সাইদুল আলম চৌধুরী জানান, কারখানার তিনতলায় প্রথমে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে আগুনের ধোঁয়া দ্রুত কারখানার বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ভেতরে থাকা শ্রমিক ও কর্মীদের অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুর পৌনে ৩টার দিকে কারখানাটিতে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। খবর পেয়ে গাজীপুর চৌরাস্তা মডার্ন ফায়ার স্টেশনের তিনটি ইউনিট প্রথমে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় পরে আরও ইউনিট সেখানে পাঠানো হয়।
পর্যায়ক্রমে কোনাবাড়ি ফায়ার সার্ভিসের একটি, গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের তিনটি এবং রাজেন্দ্রপুর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যোগ দেয়। সব মিলিয়ে নয়টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
আগুনের পাশাপাশি ঘন ধোঁয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। কারখানার ভেতরে আটকে পড়া বা ধোঁয়ার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়া শ্রমিকদের দ্রুত বাইরে বের করে আনার দিকে গুরুত্ব দেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। উদ্ধার করা ৭০ জনকে পরে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে তাঁদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, ঘটনাস্থলের আশপাশে পুকুর বা পর্যাপ্ত পানির উৎস নেই। ফলে আগুন নেভানোর জন্য প্রয়োজনীয় পানি সংগ্রহ ও সরবরাহে সমস্যা হচ্ছে। আগুন নিয়ন্ত্রণের সময় পর্যাপ্ত পানির জোগান গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এ ধরনের সীমাবদ্ধতা অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমকে ধীর করে দিতে পারে।
এ ছাড়া মেট্রিক্স গার্মেন্টসে নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকায় ফায়ার সার্ভিসের ওপরই পুরোপুরি নির্ভর করতে হচ্ছে। পোশাক কারখানায় আগুনের ক্ষেত্রে দ্রুত সতর্কতা, পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম, কার্যকর জরুরি বহির্গমন পথ এবং শ্রমিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
বিশেষ করে বহুতল ভবনে আগুন লাগলে ধোঁয়া দ্রুত ওপরের দিকে ছড়িয়ে পড়তে পারে। সে কারণে আগুনের উৎসের পাশাপাশি ধোঁয়ার বিস্তারও শ্রমিকদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে। এ ঘটনায় ৭০ জনের অসুস্থ হয়ে পড়ার বিষয়টি সেই ঝুঁকিই সামনে এনেছে।
তবে কারখানাটিতে আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিতে পারবে। উদ্ধার অভিযান ও আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ চলমান রয়েছে।









