ঝিনাইদহের মহেশপুরে একটি ড্রাগনক্ষেতের পাশ থেকে জিহাদ হোসেন (১৭) নামের এক তরুণের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলার চুন্নিআইট গ্রামের একটি ড্রাগন বাগানের পাশ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
জিহাদ চুন্নিআইট গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে। পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে খাবার খাওয়ার পর বাড়ি থেকে বের হন তিনি। এরপর আর বাড়িতে ফেরেননি। রাতে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তাঁর সন্ধান পাননি।
শনিবার সকালে স্থানীয়রা ভৈরবা গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে তুহিনের ড্রাগনক্ষেতের পাশে জিহাদের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে খবর দেওয়া হলে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পুলিশও সেখানে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের প্রাথমিক ধারণা, ড্রাগন বাগানে পেতে রাখা বৈদ্যুতিক ফাঁদে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে জিহাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে তিনি কীভাবে ওই স্থানে গেলেন, কখন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন এবং বৈদ্যুতিক ফাঁদটি কী উদ্দেশ্যে স্থাপন করা হয়েছিল—এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জিহাদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর চুন্নিআইট গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। রাতে সুস্থ অবস্থায় বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর সকালে তাঁর মরদেহ পাওয়ার ঘটনায় পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগও দেখা দিয়েছে।
ঘটনাটি দুর্ঘটনা, নাকি বৈদ্যুতিক ফাঁদ স্থাপনের ক্ষেত্রে কারও দায়িত্বহীনতা ছিল—এখন সেটিই তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি এবং বৈদ্যুতিক সংযোগের বিষয়টি যাচাই করে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
কৃষিজমি বা বাগানে ফসল রক্ষার জন্য বিদ্যুৎ ব্যবহার করে কোনো ফাঁদ তৈরি করা হলে তা মানুষের জন্যও মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে এমন ব্যবস্থা যদি প্রকাশ্য বা চলাচলের জায়গার কাছাকাছি থাকে এবং সতর্কতামূলক কোনো ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। তবে জিহাদের মৃত্যুর ক্ষেত্রে ঠিক কী ধরনের বৈদ্যুতিক সংযোগ ছিল, তা তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
পরিবারের সদস্যদের কাছে জিহাদের এমন মৃত্যু অত্যন্ত আকস্মিক ও বেদনাদায়ক। শুক্রবার রাতে খাবার খেয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়া একজন তরুণ পরদিন সকালে আর জীবিত ফিরলেন না। তাঁর মরদেহ পড়ে ছিল একটি ড্রাগনক্ষেতের পাশে।
জিহাদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এর পেছনে কারও অবহেলা বা দায় রয়েছে কি না, তা এখন তদন্তের বিষয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেই তদন্তের ফলের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে জিহাদের পরিবার ও স্থানীয়রা।









