চাঁপাইনবাবগঞ্জে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা ও শ্লীলতাহানির দায়ে মো. গোলাম কবির (৫৪) নামে এক শিক্ষককে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে তাকে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) চাঁপাইনবাবগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মাইনুদ্দিন হীরা এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত গোলাম কবির শিবগঞ্জ উপজেলার সত্রাজিতপুর (কাঁঠালিয়াপাড়া) গ্রামের মৃত তাজেবুল হকের ছেলে। তিনি স্থানীয় সত্রাজিতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শারীরিক ও স্বাস্থ্যবিষয়ক শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে ওই শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন দেখিয়ে আসছিলেন এবং তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দিতেন বলে অভিযোগ করা হয়। ঘটনার দিন জীববিজ্ঞান বই দেওয়ার কথা বলে বিকেলে দশম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে বিদ্যালয়ে ডেকে নেন গোলাম কবির।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিদ্যালয়ে আসার পর শিক্ষক তাকে শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের একটি অফিসকক্ষে নিয়ে যান। সেখানে তিনি শিক্ষার্থীর ওপর জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে ওই ছাত্রী চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন বিষয়টি টের পান। তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে দরজা-জানালা ভেঙে শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করেন। খবর পেয়ে পুলিশ বিদ্যালয়ে পৌঁছে গোলাম কবিরকে আটক করে।
ঘটনার পর শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করা হয়। মামলার তদন্ত শেষে অভিযোগের পক্ষে প্রাসঙ্গিক তথ্য-প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে সিদ্ধান্ত দেন।
রায়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় গোলাম কবিরকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি পাঁচ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত জরিমানা পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাকে অতিরিক্ত তিন মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী এম আব্দুস সালাম রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আদালতে আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আইন অনুযায়ী সাজা দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সম্পর্ক মূলত আস্থা, নিরাপত্তা ও দায়িত্ববোধের ওপর নির্ভরশীল। সেই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে কোনো শিক্ষার্থী যৌন হয়রানি বা নির্যাতনের শিকার হলে তার প্রভাব শুধু সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর ওপরই পড়ে না, পুরো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়। এ ঘটনায় আদালতের দেওয়া সাজা সেই অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
মামলার রায়ের পর এখন দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে কারাগারে পাঠানো এবং আদালতের আদেশ অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম বাস্তবায়নের বিষয়টি সামনে রয়েছে।









