,

নিরাপত্তা চেয়ে জিডির ১৫ দিন পর গুলিতে নিহত

খুলনার রূপসা উপজেলায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার ১৫ দিনের মাথায় গুলিতে নিহত হয়েছেন আক্তার ঢালী। সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে উপজেলার আইচগাতি ইউনিয়নের দুর্জনীমহল গ্রামে দুর্বৃত্তদের গুলিতে তিনি নিহত হন। এর আগে একই ঘটনায় তার ছেলে জয় ঢালীকেও কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়েছিল।

আক্তার ঢালী গত ২১ সেপ্টেম্বর রূপসা থানায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে জিডি করেছিলেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, ছেলে জয় ঢালী হত্যা মামলার কয়েকজন আসামি মামলা তুলে নিতে তাকে হুমকি দিচ্ছেন। এমনকি প্রাণনাশের আশঙ্কার কথাও তিনি জিডিতে জানিয়েছিলেন।

থানা পুলিশের নথি অনুযায়ী, নিরাপত্তা চেয়ে করা আবেদনটির দুই দিন পর জিডিটি নথিভুক্ত করা হয়। জিডি নম্বর ১৪১২, তারিখ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬। রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার জাহিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জিডিতে আক্তার ঢালী অভিযোগ করেন, গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ৯টার দিকে সেনরেবাজার এলাকায় জয় ঢালী হত্যা মামলার আসামি মুনজিল শেখ, মুরাদ শেখ, মাসুদ মোল্যা ও রোপা মোল্যা তাকে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে তারা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ ও হুমকি দেন। একপর্যায়ে তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে সেখান থেকে চলে আসেন আক্তার ঢালী।

জিডিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, এর আগে দুর্জনীমহলের শহীদের মোড়ে তার ছেলে জয় ঢালীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। ওই হত্যা মামলার আসামিরা হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে এলাকায় ফিরে এসে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কার কথা জানিয়ে আক্তার ঢালী জিডিতে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আবেদন করেছিলেন।

এর প্রায় ১৫ দিন পর সোমবার সন্ধ্যায় দুর্জনীমহল গ্রামে গুলিতে প্রাণ হারালেন তিনি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সোমবার মাগরিবের নামাজের পর মসজিদের পাশে একটি চায়ের দোকানের বেঞ্চে বসে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলছিলেন আক্তার ঢালী। এ সময় হঠাৎ গুলির শব্দ শোনা যায়। শব্দ শুনে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে যান।

সেখানে গিয়ে তারা আক্তার ঢালীকে বেঞ্চের পাশে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখেন। স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আক্তার ঢালীর ছেলে জয় ঢালী হত্যার ঘটনাটিও এর আগে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল। গত ১৫ আগস্ট সন্ধ্যায় দুর্জনীমহলের শহীদের মোড়ে জয় ঢালীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় তার মা নাসিমা বেগম বাদী হয়ে ১৩ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

ছেলের হত্যার মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়েরের পর আক্তার ঢালীর নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি জিডিতে স্পষ্টভাবে উঠে আসে। সেখানে তিনি পরিবারের ওপর চাপ ও হুমকির অভিযোগ করেছিলেন। পরে সেই জিডির ১৫ দিনের মাথায় তার হত্যার ঘটনা ঘটায় আগের হুমকিগুলোর সঙ্গে নতুন হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

রূপসা থানার ওসি আনোয়ার জাহিদ বলেন, দুর্বৃত্তদের গুলিতে আক্তার ঢালী নিহত হয়েছেন। কী কারণে এবং কারা তাকে গুলি করে হত্যা করেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কারা জড়িত এবং এর পেছনে কী কারণ ছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে আগের হত্যা মামলা, আক্তার ঢালীর করা জিডিতে উল্লেখিত হুমকি এবং সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের মধ্যে কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আসতে পারে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে হত্যার উদ্দেশ্য বা জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।