বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান তৃতীয়বারের মতো সংরক্ষিত নারী আসনে দলের মনোনয়ন পেয়েছেন। এর আগে তিনি ১৯৯১ ও ২০০১ সালে বরিশাল থেকে বিএনপির হয়ে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন। এবারের মনোনয়নও বরিশাল থেকে দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা তাঁর হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বছরের ডিসেম্বরের আয়কর বিবরণীতে সেলিমা রহমানের মোট সম্পদের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে ৬ কোটি ৮৮ লাখ ৯৫ হাজার ৭৩৭ টাকা। হলফনামায় স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বিস্তারিত বিবরণ উপস্থাপন করা হয়েছে।
হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর মালিকানাধীন ১০ হাজার ৬১২ বর্গফুটের একটি বাড়ির মূল্য দেখানো হয়েছে ২ কোটি ৬২ লাখ ৪৫ হাজার ১৯৫ টাকা। তবে বাড়িটির অবস্থান ও ধরন উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়া পেশা হিসেবে রাজনীতি উল্লেখ করা এই নেত্রীর নগদ অর্থ রয়েছে ৭০ লাখ ৯৯ হাজার ৭৭৫ টাকা এবং ব্যাংক হিসাবসমূহে জমা রয়েছে ৩ কোটি ১৭ লাখ ৭০ হাজার ৭৬৭ টাকা।
তিনি যে গাড়ি ব্যবহার করেন তার অর্জনকালীন মূল্য ধরা হয়েছে ৩৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা, যদিও গাড়ির ধরন হলফনামায় উল্লেখ নেই। স্থাবর সম্পত্তি থেকে তাঁর বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৭ লাখ ৯২ হাজার টাকা। পাশাপাশি বিনিয়োগ রয়েছে ২৮ লাখ ১১ হাজার ২৩৯ টাকার।
অতিরিক্তভাবে, তাঁর কাছে ৩০ ভরি স্বর্ণের ক্রয়মূল্য হিসেবে ৫০ হাজার টাকা এবং আসবাবপত্রের মূল্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। আর্থিক দায় বা ঋণের অংশে কয়েকটি খাতের তথ্যও হলফনামায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সম্পদের সারসংক্ষেপ টেবিল
| সম্পদের ধরন | বিবরণ | মূল্য |
|---|---|---|
| বাড়ি | ১০,৬১২ বর্গফুট (অবস্থান অনির্দিষ্ট) | ২ কোটি ৬২ লাখ ৪৫ হাজার ১৯৫ টাকা |
| নগদ অর্থ | ব্যক্তিগত নগদ | ৭০ লাখ ৯৯ হাজার ৭৭৫ টাকা |
| ব্যাংক জমা | বিভিন্ন ব্যাংকে জমা | ৩ কোটি ১৭ লাখ ৭০ হাজার ৭৬৭ টাকা |
| গাড়ি | অর্জনকালীন মূল্য (ধরন অনির্দিষ্ট) | ৩৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা |
| বিনিয়োগ | বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ | ২৮ লাখ ১১ হাজার ২৩৯ টাকা |
| স্বর্ণ | ৩০ ভরি | ৫০ হাজার টাকা |
| আসবাবপত্র | গৃহস্থালি সামগ্রী | ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা |
হলফনামায় উল্লেখিত ঋণ ও দায়ের মধ্যে রয়েছে ফ্ল্যাট বিক্রির অগ্রিম বাবদ ২ কোটি ২০ লাখ টাকা, মেয়ের কাছ থেকে নেওয়া ঋণ ১ কোটি ২০ লাখ টাকা এবং বাড়িভাড়া বাবদ ৯ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
হলফনামায় আরও উল্লেখ করা হয়, সেলিমা রহমানের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালে তৎকালীন সরকারের সময় মোট আটটি মামলা হয়েছিল। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর নির্বাহী আদেশে এসব মামলা প্রত্যাহার করা হয়। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই বলে হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনে দাখিলকৃত এই তথ্য অনুযায়ী তাঁর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পূর্ণ চিত্র এবং আর্থিক দায়দেনার বিবরণ উপস্থাপিত হয়েছে।
