বলিউড সুপারস্টার সালমান খানের সঙ্গে দেখা করার স্বপ্ন দেখতেন ছোটবেলা থেকেই। প্রিয় অভিনেতাকে একনজর দেখার সেই আকাঙ্ক্ষা একসময় পূরণও হয়েছিল বাংলাদেশের অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী মেহবুবা মাহনূর চাঁদনীর। শুধু দেখা করেই ক্ষান্ত হননি তিনি; দীর্ঘ সময় ধরে রেখেছিলেন সালমানের হাত। বাড়ি ফিরে সেই হাত সাত দিন না ধোয়ার মতো কাণ্ডও করেছিলেন কিশোরী চাঁদনী। সম্প্রতি প্রিয় তারকার সঙ্গে সাক্ষাতের সেই মজার স্মৃতি আবারও সামনে এনেছেন তিনি।
সালমান খানের প্রতি নিজের ভালো লাগার কথা বিভিন্ন সময়ে জানিয়েছেন চাঁদনী। শৈশবে তাঁর ঘরের দরজা, পড়ার টেবিলের সামনে এবং ঘরের বিভিন্ন জায়গায় টাঙানো থাকত প্রিয় অভিনেতার ছবি। সালমানকে ঘিরে সেই উচ্ছ্বাস এতটাই গভীর ছিল যে তাঁর সঙ্গে সামনাসামনি দেখা করার সুযোগ পাওয়াটা ছিল চাঁদনীর কাছে বিশেষ এক স্বপ্ন।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সালমানের সঙ্গে তোলা দুটি ছবি প্রকাশ করেন এই অভিনেত্রী। ছবির সঙ্গে তিনি লেখেন, ‘আমার সাল্লুর সঙ্গে।’ পাশাপাশি যাঁরা তাঁর সাক্ষাৎকার দেখে ঘটনাটিকে অতিরঞ্জিত বলে মন্তব্য করেছিলেন, তাঁদের উদ্দেশ্যেও ছবিগুলো প্রকাশ করেছেন বলে জানান তিনি।
যেভাবে দেখা হয়েছিল প্রিয় তারকার সঙ্গে
চাঁদনীর স্মৃতিচারণা অনুযায়ী, ১৯৯৭-৯৮ সালের দিকে বাংলাদেশে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আসার কথা ছিল সালমান খানের। খবরটি শুনেই উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েন তিনি। প্রিয় অভিনেতাকে সামনে থেকে দেখার আশায় অনুষ্ঠানের টিকিটও কিনেছিলেন। কিন্তু পরে জানতে পারেন, কোনো একটি কারণে অনুষ্ঠানটি আর হচ্ছে না। এতে ভীষণ মন খারাপ হয়েছিল তাঁর।
তবে প্রিয় তারকার সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা ছাড়েননি চাঁদনী। এরপর থেকে অন্য কোনোভাবে সালমানের সাক্ষাৎ পাওয়ার সুযোগ খুঁজতে থাকেন তিনি।
একপর্যায়ে জানতে পারেন, সালমান খান বাংলাদেশে এসেছেন এবং ঢাকার শেরাটন হোটেলে অবস্থান করছেন। হোটেলটি বর্তমানে ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা নামে পরিচিত। খবরটি পাওয়ার পর নিজের মা, বান্ধবী সাদিয়া ইসলাম এবং ফটোগ্রাফার মহসিন ভাইকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে চলে যান চাঁদনী।
প্রথমে দেখা করার সুযোগ না পেলেও নানা চেষ্টা চালিয়ে যান তাঁরা। একসময় সালমানের কক্ষের ঠিকানা জানতে পারেন। এরপর সেখানে গিয়ে দেখেন, অভিনেতা একাই রয়েছেন। অনুমতি নিয়ে তাঁর পাশে গিয়ে দাঁড়ান চাঁদনী।
সেই সময় স্কুলে পড়তেন তিনি। প্রিয় অভিনেতার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের নাম ও পরিচয় জানান এবং তাঁর সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলেন। বহুদিনের স্বপ্ন পূরণের সেই মুহূর্তে সালমানের হাত ধরে থাকার স্মৃতিও আজও স্পষ্ট মনে আছে তাঁর।
অটোগ্রাফে লিখেছিলেন ‘চাঁদনী, ফর ইয়োর সালমান’
সালমানের সঙ্গে সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে চাঁদনী বলেন, যতক্ষণ তিনি অভিনেতার সঙ্গে ছিলেন, ততক্ষণই তাঁর হাত ধরে রেখেছিলেন। একপর্যায়ে সালমান তাঁর নাম জানতে চান। পরে অটোগ্রাফ দেওয়ার সময় লিখে দেন, ‘চাঁদনী, ফর ইয়োর সালমান।’
সালমানের সেই লেখা ও আচরণ আজও ভুলতে পারেননি চাঁদনী। বিশেষ করে নাম জিজ্ঞাসা করার সময় অভিনেতা যেভাবে তাঁর দিকে তাকিয়েছিলেন, সেই মুহূর্তটি এখনো তাঁর স্মৃতিতে উজ্জ্বল।
চাঁদনীর ভাষ্য অনুযায়ী, সালমানকে তখন কিছুটা লাজুক মনে হয়েছিল। তাঁর নাম জানতে চাওয়া, চোখের দিকে তাকানো এবং অটোগ্রাফে বিশেষভাবে নাম লিখে দেওয়া—সবকিছুই কিশোরী ভক্তের মনে গভীর ছাপ ফেলেছিল। সময় পেরিয়ে গেলেও সেই স্মৃতি তাঁর কাছে আজও অমূল্য।
সাত দিন হাত না ধোয়ার সেই কাণ্ড
সাক্ষাতের সবচেয়ে মজার অংশটি ছিল বাড়ি ফেরার পর। প্রিয় অভিনেতার সঙ্গে হ্যান্ডশেক করার পর নিজের হাত সাত দিন ধোননি চাঁদনী। ঘটনাটি বলতে গিয়ে এখনো হেসে ফেলেন তিনি।
চাঁদনী জানান, সালমানের সঙ্গে দেখা হওয়ার সময় তিনি তাঁর হাত ধরে ছিলেন। বাড়ি ফিরে সেই হাত সাত দিন না ধোয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছিলেন। নিজের ওই আচরণকে কিশোর বয়সের পাগলামি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রিয় তারকার প্রতি তাঁর ভালো লাগা ছিল ভীষণ গভীর। ঘরের নানা জায়গায় সালমানের ছবি টাঙিয়ে রাখার স্মৃতিও সে সময়ের কথা মনে করিয়ে দেয়।
ভক্তদের কাছে প্রিয় তারকার সঙ্গে দেখা হওয়া অনেক সময় জীবনের বিশেষ অভিজ্ঞতা হয়ে থাকে। কারও কাছে একটি ছবি, কারও কাছে অটোগ্রাফ, আবার কারও কাছে কয়েক মুহূর্তের কথোপকথনই দীর্ঘদিনের স্মৃতি হয়ে থাকে। চাঁদনীর অভিজ্ঞতাও তেমনই। সালমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর কেটে গেছে বহু বছর, কিন্তু সেই দিনের উত্তেজনা, হাত ধরে থাকার অনুভূতি এবং অটোগ্রাফের কথা এখনো তাঁর মনে গেঁথে আছে।
‘ম্যায়নে প্যার কিয়া’ থেকেই মুগ্ধতা
১৯৮৯ সালে মুক্তি পাওয়া সালমান খানের সিনেমা ‘ম্যায়নে প্যার কিয়া’ দেখেই অভিনেতার প্রতি ভালো লাগা তৈরি হয়েছিল বলে জানিয়েছেন চাঁদনী। ছবিটি সালমানের ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের অন্যতম উল্লেখযোগ্য কাজ। এর মাধ্যমে হিন্দি চলচ্চিত্রে তাঁর পরিচিতি আরও বিস্তৃত হয় এবং দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয় ব্যাপক আগ্রহ।
সেই সিনেমা থেকে শুরু হওয়া মুগ্ধতাই একসময় চাঁদনীকে প্রিয় তারকার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ খুঁজতে অনুপ্রাণিত করেছিল। বহু বছর পর ফেসবুকে প্রকাশিত ছবিগুলো আবারও সামনে এনেছে তাঁর শৈশবের সেই আবেগঘন স্মৃতি। সাত দিন হাত না ধোয়ার ঘটনাটি এখন তাঁর কাছে হাস্যরসের স্মৃতি হলেও, এর পেছনে ছিল প্রিয় অভিনেতাকে ঘিরে কিশোর বয়সের সরল ও গভীর ভালোবাসা।









