মুদ্রা বিনিময় হার আজকের হালনাগাদ

বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য, রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশির পাঠানো অর্থ দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল রাখছে। ফলে প্রতিদিনই বৈদেশিক মুদ্রার বাজারের ওঠানামা সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হিসেবে বিবেচিত হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ শুক্রবার দেশের বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে বিভিন্ন মুদ্রার বিনিময় হারে সামান্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। মার্কিন ডলারের ক্ষেত্রে ক্রয় ও বিক্রয় উভয় হারই ১২২ টাকা ৭০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইউরোর ক্ষেত্রে ক্রয় হার ১৪৪ টাকা ৭৬ পয়সা এবং বিক্রয় হার ১৪৪ টাকা ৭৯ পয়সা নির্ধারিত রয়েছে। বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী এই হার সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রবাহ, জ্বালানির মূল্য পরিবর্তন এবং বৈদেশিক বিনিয়োগের উপর নির্ভর করে ওঠানামা করে। তাই প্রতিদিনের এই হার রেমিট্যান্স প্রেরণকারী ও আমদানিকারক ব্যবসায়ীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক হিসেবে কাজ করে।

প্রবাসী আয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশিরা নিয়মিতভাবে দেশে অর্থ পাঠান, যা সরাসরি দেশের অর্থনীতিতে প্রবাহিত হয়।

নিচে ১৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার উপস্থাপন করা হলো—

বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার

মুদ্রার নামক্রয় (টাকা)বিক্রয় (টাকা)
মার্কিন ডলার১২২.৭০১২২.৭০
ব্রিটিশ পাউন্ড১৬৬.৩৫১৬৬.৪৪
ইউরো১৪৪.৭৬১৪৪.৭৯
জাপানি ইয়েন০.৭৭০.৭৬৭
অস্ট্রেলীয় ডলার৮৭.৯৫৮৮.০০
সিঙ্গাপুর ডলার৯৬.৫৩৯৬.৫৬
কানাডীয় ডলার৮৯.২৮৮৯.৩০
ভারতীয় রুপি১.৩১১.৩১
সৌদি রিয়াল৩২.৭৯৩২.৭৯

অর্থনীতিবিদদের মতে, ডলারের স্থিতিশীলতা আপাতদৃষ্টিতে বাজারে স্বস্তি দিলেও বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি ও আন্তর্জাতিক সুদের হারের পরিবর্তন ভবিষ্যতে এই স্থিতি প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে আমদানি নির্ভর পণ্যের মূল্য নির্ধারণে ডলারের বিনিময় হার সরাসরি প্রভাব ফেলে।

অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের মুদ্রাগুলোর স্থিতিশীলতা প্রবাসী শ্রমবাজারের আয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়তা করছে। এতে করে রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের ওঠানামা আপাতত দেখা যাচ্ছে না।

সামগ্রিকভাবে, বৈদেশিক মুদ্রার এই হালনাগাদ হার দেশের আমদানি-রপ্তানি, ব্যাংকিং কার্যক্রম এবং সাধারণ ভোক্তা পর্যায়ের অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।