খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ই নভেম্বর ২০২২, ৪:৫০ পিএম
বজলুল হক হারুন (জন্ম: ১লা মার্চ ১৯৫৪) হলেন একজন বাংলাদেশী ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ, যিনি বিএইচ হারুন নামে সমধিক পরিচিত। তিনি ঝালকাঠি-১ থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ -সদস্য।
Table of Contents

বজলুল হক হারুন ২০০৮ সাধারণ নির্বাচনে ঝালকাঠি-১ আসন থেকে প্রথম সংসদ -সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ৫ জানুয়ারি ২০১৪ সাধারণ নির্বাচনে তিনি পুনরায় সংসদ -সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
বজলুল হক হারুন সংসদ -সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর অবৈধ সম্পদ অর্জন, টাকা আত্মসাৎ সহ নানা বিতর্কে জড়িয়েছেন। তার মধ্যে একটি হল রেইনট্রি হোটেল বিতর্ক, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে অস্ত্র দেখিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছিল এবং যাতে হারুনের ছোট ছেলে মাহির হারুন জড়িত ছিল। এছাড়া হোটেল ভবন নির্মাণ ও হোটেল চালু করতে তিনি রাজউকের কোনো নিয়মনীতি মানেননি। ২০০৮ সালে তিনি প্রিমিয়ার ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে ব্যাংক থেকে রুমি এন্টারপ্রাইজের চেক জালিয়াতি করে ১৩৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ২০১৩ সালে তিনি রাজাপুর ডিগ্রি কলেজের ১২ জন শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি করেন, যার জন্য তিনি নিয়োগ পরীক্ষা নেন ঢাকায় নিজ অফিসে।
সংসদ সদস্য জনপ্রতিনিধি হিসেবে পার্লামেন্ট বা জাতীয় সংসদে সরকার কিংবা বিরোধীদলীয় সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণ করে থাকেন। এর ইংরেজি প্রতিরূপ হচ্ছে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট’ বা ‘এমপি’ এবং বাংলায় ‘সংসদ -সদস্য’ কিংবা ‘সাংসদ’। এছাড়া, ফরাসী ভাষায় সংসদ -সদস্যকে ‘ডেপুটি’ নামে অভিহিত করা হয়।

সংসদীয় গণতন্ত্রে একজন সংসদ -সদস্য আইন-প্রণয়ন বিশেষতঃ রাষ্ট্রীয় আইন ও নাগরিক অধিকার প্রণয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সাধারণ অর্থে নির্দিষ্ট সংসদ কিংবা জাতীয় সংসদের সদস্যই এমপি বা সংসদ -সদস্য হিসেবে আখ্যায়িত হন।
বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে দ্বি-স্তরবিশিষ্ট সংসদীয় গণতন্ত্র রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে – উচ্চ কক্ষ এবং নিম্ন কক্ষ। সেক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি হিসেবে ‘সংসদ -সদস্য’ পদটি নিম্নকক্ষের জন্য প্রযোজ্য। সচরাচর জনপ্রতিনিধি হিসেবে সংসদ -সদস্য পদটি উচ্চ কক্ষে ভিন্ন পদে উপস্থাপন ও চিহ্নিত করা হয়। উচ্চ কক্ষ হিসেবে সিনেটে সংসদ -সদস্য তখন তিনি ‘সিনেটর’ পদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।

সংসদ -সদস্য হিসেবে ব্যক্তিকে প্রাথমিকভাবে দলের সদস্যরূপে তাঁর অবস্থানকে নিশ্চিত করতে হয়। পরবর্তীতে দলীয় সভায় মনোনয়নের মাধ্যমে সরাসরি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও জনমতের যথার্থ সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিফলনে তিনি এমপি হিসেবে নির্বাচিত হন। কখনোবা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর অভাবে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে থাকেন।
সাধারণত সংসদ সদস্য কোন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সদস্য হয়ে থাকেন। দলীয়ভাবে মনোনয়নলাভে ব্যর্থ হলে কিংবা দলীয় সম্পৃক্ততা না থাকলেও ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’ হিসেবে অনেকে নির্বাচিত কিংবা মনোনীত সংসদ সদস্য হন। সংসদ- সদস্যকে অনেকে ‘সাংসদ’ নামেও ডেকে থাকেন। তবে, নিত্য-নৈমিত্তিক বা প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ডে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট’ হিসেবে সংসদ -সদস্যকে ‘এমপি’ শব্দের মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত আকারে ব্যবহার করা হয়। বর্তমানকালে প্রচারমাধ্যমে সাধারণ অর্থেই এমপি শব্দের প্রয়োগ লক্ষ্যণীয়।
আরও দেখুন:
মন্তব্য