সবচেয়ে কম বয়সী নভোচারী ও চারটি ইঁদুর নিয়ে চীনের শেনঝো–২১ মহাকাশে

চীনের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা তাদের মহাকাশ অভিযানের ইতিহাসে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছে। শনিবার ভোরে শেনঝো–২১ মহাকাশযানটি সফলভাবে তিয়ানগং মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছেছে, যা চীনের ক্রমবর্ধমান মহাকাশ সক্ষমতার এক অনন্য নিদর্শন। এই অভিযানের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো দেশের সর্বকনিষ্ঠ নভোচারীর অংশগ্রহণ এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার অংশ হিসেবে চারটি ইঁদুরের মহাকাশ যাত্রা।

আপনার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই ঐতিহাসিক অভিযানের মূল দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

১. অভিযানের সংক্ষিপ্ত বিবরণ

বিষয়বিস্তারিত তথ্য
মহাকাশযানশেনঝো–২১ (Shenzhou-21)
উৎক্ষেপণ কেন্দ্রজিউকুয়ান স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র (গোবি মরুভূমি)
গন্তব্যতিয়ানগং মহাকাশ স্টেশন (Tiangong Space Station)
ডকিং (যুক্ত হওয়া) সময়শনিবার ভোর ৩:২২ মিনিটে (স্থানীয় সময়)
মিশনের মেয়াদ৬ মাস

২. নভোচারী দল: তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়

এই অভিযানে তিনজন সদস্য অংশ নিয়েছেন, যার মধ্যে তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে:

  • ঝ্যাং লু (অভিজ্ঞ নভোচারী): এই অভিযানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

  • উ ফেই (৩২ বছর): ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যুক্ত হয়ে তিনি চীনের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ নভোচারী হিসেবে মহাকাশে যাওয়ার রেকর্ড গড়লেন।

  • ঝ্যাং হংঝ্যাং (৩৯ বছর): দলের তৃতীয় সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।

উ ফেই-এর মন্তব্য: মহাকাশে পাড়ি দেওয়ার আগে তিনি তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “নিজেকে অত্যন্ত সৌভাগ্যবান মনে হচ্ছে।”


৩. মহাকাশে অনন্য যাত্রী: প্রশিক্ষিত চারটি ইঁদুর

এই অভিযানে মানুষের পাশাপাশি চারটি ইঁদুর (দুটি পুরুষ ও দুটি নারী) পাঠানো হয়েছে, যা বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষেত্রে এক বড় পদক্ষেপ।

  • নির্বাচন ও প্রশিক্ষণ: প্রায় ৩০০টি ইঁদুরের মধ্য থেকে বাছাই করে এই চারটিকে টানা দুই মাস বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

  • গবেষণার উদ্দেশ্য: ওজনহীন (Zero-gravity) পরিবেশ এবং মহাকাশ স্টেশনের সীমাবদ্ধ স্থানে থাকার ফলে প্রাণীর শরীর ও আচরণে কী ধরনের পরিবর্তন আসে, তা পর্যবেক্ষণ করা।

  • ভবিষ্যৎ লক্ষ্য: এই গবেষণার ফল ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ মিশন (যেমন মঙ্গল গ্রহে যাত্রা) এবং সেখানে জীবজগতের অভিযোজন ক্ষমতা বুঝতে বিজ্ঞানীদের সহায়তা করবে।


৪. তিয়ানগং মহাকাশ স্টেশন ও চীনের অবস্থান

বর্তমানে পৃথিবীর কক্ষপথে সচল দুটি মানববাহী মহাকাশ স্টেশনের একটি হলো চীনের তিয়ানগং (অন্যটি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন বা ISS)। চীন প্রতি ছয় মাস অন্তর সেখানে নতুন নভোচারী পাঠিয়ে তাদের গবেষণা ও স্টেশনের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

এই অভিযানের মাধ্যমে চীন আবারও প্রমাণ করল যে, মহাকাশ বিজ্ঞানে তারা বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ শক্তি হওয়ার পথে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।