ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের প্রতিযোগিতামূলক বাস্তবতায় আবারও শৃঙ্খলাজনিত বিতর্কের জন্ম দিলেন শ্রীলঙ্কার টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক দাসুন শানাকা। পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) ছেড়ে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের জেরে তাকে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে ২০২৭ সালের পিএসএল আসরে অংশ নিতে পারবেন না তিনি।
পিসিবি তাদের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শানাকার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বোর্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, লাহোর কালান্দার্সের সঙ্গে বৈধ চুক্তিতে আবদ্ধ থাকা সত্ত্বেও শানাকা একতরফাভাবে দল থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নেন, যা পিএসএলের খেলোয়াড় নিবন্ধন নীতিমালা এবং সংশ্লিষ্ট ত্রিপক্ষীয় চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
উল্লেখ্য, এবারের পিএসএলে লাহোর কালান্দার্সের হয়ে মাঠে নামার কথা ছিল শানাকার। কিন্তু টুর্নামেন্ট শুরুর আগমুহূর্তে তিনি দল ছেড়ে আইপিএলের দল রাজস্থান রয়্যালসে যোগ দেন। এই পদক্ষেপকে পিসিবি শুধু চুক্তিভঙ্গ হিসেবেই নয়, বরং টুর্নামেন্টের সামগ্রিক শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আইপিএলের আর্থিক সামর্থ্য, বিপুল দর্শকপ্রিয়তা এবং আন্তর্জাতিক মর্যাদা ক্রিকেটারদের কাছে এটিকে অধিক আকর্ষণীয় করে তুলেছে। ফলে অনেক খেলোয়াড় অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের তুলনায় আইপিএলকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। তবে এ ধরনের সিদ্ধান্ত যদি পূর্বচুক্তি ভঙ্গ করে নেওয়া হয়, তাহলে তা শাস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে—শানাকার ঘটনা তারই সাম্প্রতিক উদাহরণ।
এর আগে অনুরূপ ঘটনায় জিম্বাবুয়ের পেসার ব্লেসিং মুজারাবানিকেও দুই বছরের জন্য পিএসএল থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের হয়ে খেলার কথা থাকলেও তিনি আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সে যোগ দেন, যেখানে তিনি বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের বিকল্প হিসেবে দলে অন্তর্ভুক্ত হন। এই ঘটনাও পিসিবির কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়।
গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, শানাকার ক্ষেত্রেও প্রথমে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা বিবেচনা করা হয়েছিল। তবে তিনি নিজের ভুল স্বীকার করে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করায় বোর্ড তার শাস্তি কমিয়ে এক বছরে নামিয়ে আনে।
নিজের বিবৃতিতে শানাকা বলেন, “পিএসএল থেকে নাম প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের জন্য আমি গভীরভাবে অনুতপ্ত। পাকিস্তানের জনগণ, পিএসএল সমর্থক এবং বিশ্ব ক্রিকেট অঙ্গনের কাছে আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী। এটি একটি সম্মানজনক প্রতিযোগিতা, এবং আমার সিদ্ধান্তে যে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে তা আমি উপলব্ধি করতে পারছি।”
তিনি আরও বলেন, “লাহোর কালান্দার্সের সমর্থকদের বিশেষভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। তাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারায় আমি সত্যিই অনুতপ্ত।”
তবে আইপিএলে যোগ দিলেও এখন পর্যন্ত মাঠে নামার সুযোগ পাননি ৩৪ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার। রাজস্থান রয়্যালস ইতোমধ্যে একাধিক ম্যাচ খেললেও তিনি একাদশে জায়গা করে নিতে পারেননি। ফলে তার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—যেখানে পিএসএলে নিশ্চিত খেলার সুযোগ ছিল, সেখানে আইপিএলে তিনি এখনো দর্শক হিসেবেই সময় কাটাচ্ছেন।
নিচে ঘটনাটির গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমূহ উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| খেলোয়াড় | দাসুন শানাকা |
| দেশ | শ্রীলঙ্কা |
| পিএসএল দল | লাহোর কালান্দার্স |
| আইপিএল দল | রাজস্থান রয়্যালস |
| অভিযোগ | চুক্তিভঙ্গ করে লিগ ত্যাগ |
| শাস্তি | ১ বছরের নিষেধাজ্ঞা |
| কার্যকর সময় | ২০২৭ পিএসএল |
| শাস্তি কমার কারণ | আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনা |
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা যত বাড়ছে, ততই খেলোয়াড়দের জন্য পেশাদার দায়িত্ব ও আর্থিক সুযোগের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে উঠছে। শানাকার এই ঘটনা ভবিষ্যতে অন্যান্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
