জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

সংঘাতের মাঝেই ইরানের ড্রোন উৎপাদন সক্ষমতা বাড়লো তিন গুণ

চলমান আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি ও সংঘাতের উত্তপ্ত আবহে ইরান তাদের সামরিক শক্তিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দিয়েছে। যুদ্ধকালীন এই সংকটময় পরিস্থিতির মাঝেই দেশটি তাদের ড্রোন উৎপাদন সক্ষমতা আগের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি করেছে বলে দাবি করেছেন ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাজিদ ইবন আল-রেজা। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এই তথ্য সামনে এনেছে। সামরিক ও কৌশলগত দিক থেকে ইরানের এই অগ্রগতিকে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ব রাজনীতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।

ভারপ্রাপ্ত ইরানি প্রতিরক্ষামন্ত্রী এই সাফল্যের পেছনে দেশের অভ্যন্তরীণ মেধা ও প্রযুক্তির উন্নয়নকে কৃতিত্ব দিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি পরিষ্কারভাবে আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে যে, ইরানি মেধাবী জনশক্তি এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে সঠিক সময়ে বিনিয়োগই দেশের প্রতিরক্ষা শক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তিনি আরও যোগ করেন, যুদ্ধের চরম মুহূর্তেও দেশের প্রতিরক্ষা সামগ্রী উৎপাদনের চাকা এক মুহূর্তের জন্যও থমকে যায়নি; বরং অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও কৌশলগত অবস্থান বিবেচনা করে ড্রোন উৎপাদন ক্ষমতা তিন গুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে।

প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ও গবেষণায় স্বনির্ভরতা

ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি অনুযায়ী, হঠাৎ করেই এই উৎপাদন বৃদ্ধি পায়নি। দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি মাথায় রেখে তৈরি করা প্রযুক্তিগত অবকাঠামো এবং গবেষণায় নিরবচ্ছিন্ন বিনিয়োগের ফলেই এই অভাবনীয় সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও ইরান সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে ড্রোনের মতো আধুনিক সমরাস্ত্রের নকশা ও ব্যাপক উৎপাদন নিশ্চিত করতে পেরেছে। দেশটির এই স্বনির্ভরতা তাদের সামরিক সক্ষমতাকে নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

আধুনিক যুদ্ধকৌশলে ড্রোন বা চালকবিহীন ড্রোনের (ইউএভি) গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। কম খরচে নিখুঁতভাবে শত্রুর ঘাঁটিতে আঘাত হানা বা গোয়েন্দা নজরদারি চালানোর ক্ষেত্রে ড্রোনের কোনো বিকল্প নেই। ইরান গত কয়েক দশকে তাদের ড্রোন প্রযুক্তির প্রভূত উন্নতি সাধন করেছে। বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যখন অস্ত্রের সরবরাহ ঠিক রাখা যেকোনো দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ, তখন ইরান তাদের উৎপাদন লাইন সচল রেখে সক্ষমতা কয়েক গুণ বাড়িয়ে নেওয়ার দাবি করল।

বৈশ্বিক রাজনীতি ও আঞ্চলিক সমীকরণ

আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই ঘোষণা মূলত তাদের আঞ্চলিক প্রতিপক্ষ এবং পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য একটি পরোক্ষ বার্তা। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের আধিপত্যের বিপরীতে ইরান যে নিজেদের সামরিক প্রতিরক্ষাকে আরও নিরেট করছে, তা এই ড্রোন উৎপাদনের পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট।

যুদ্ধের বাজারে ড্রোনের মতো কার্যক্ষম অস্ত্রের উৎপাদন বৃদ্ধির এই খবর আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিতে পারে। তবে ইরান সবসময়ই দাবি করে আসছে, তাদের এই সামরিক প্রস্তুতি সম্পূর্ণভাবে আত্মরক্ষা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখার উদ্দেশ্যে তৈরি। বৈশ্বিক নানা সমীকরণের মাঝে ইরানের এই বর্ধিত সামরিক শক্তি মাঠের লড়াইয়ে এবং আলোচনার টেবিলে তাদের কতটা বাড়তি সুবিধা দেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর