জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

শ্যামলীতে টিনশেড বসতঘরে আগুন, নিয়ন্ত্রণে দুই ইউনিট

রাজধানীর শ্যামলীতে কয়েকটি টিনশেড বসতঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রায় ৪০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে আগুনে কতটি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ কত, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে শ্যামলীর ৩ নম্বর রোডে, ঢাকা উদ্যানের পরবর্তী অংশে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে আগুন লাগার খবর পৌঁছায়। খবর পাওয়ার পর মোহাম্মদপুর ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেই আগুনের বিস্তার ঠেকাতে বিভিন্ন দিক থেকে পানি ছিটিয়ে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে আশপাশের বাসিন্দারাও আগুন নেভানোর কাজে সহযোগিতা করেন। টিনশেড ঘরগুলো পাশাপাশি থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে ফায়ার সার্ভিসের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের কারণে আগুন বড় পরিসরে ছড়িয়ে পড়েনি।

প্রায় ৪০ মিনিটের চেষ্টার পর বিকেল ৪টা ১০ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুনের পরিস্থিতি বিবেচনায় ফায়ার সার্ভিসের অতিরিক্ত কোনো ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানোর প্রয়োজন হয়নি।

ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শক আনোয়ারুল ইসলাম জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে দুটি ইউনিট কাজ করেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় বাড়তি ইউনিটের প্রয়োজন হয়নি বলেও তিনি জানান।

আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর ঘটনাস্থলে ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক হিসাব এবং অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করা যায়নি। বৈদ্যুতিক ত্রুটি, রান্নার চুলা কিংবা অন্য কোনো উৎস থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য জানানো হয়নি।

ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় টিনশেড বসতঘরগুলো সাধারণত কাছাকাছি অবস্থানে থাকায় একটি ঘরে আগুন লাগলে দ্রুত পাশের ঘরেও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে সরু রাস্তা, সীমিত প্রবেশপথ এবং ঘরের মধ্যে পর্যাপ্ত ফাঁকা জায়গা না থাকলে অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধারকাজ আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। এ কারণে এমন এলাকায় আগুনের ঘটনা ঘটলে দ্রুত জরুরি সেবায় খবর দেওয়া এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতাও এ ধরনের পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে আগুন নেভানোর সময় প্রশিক্ষণ ছাড়া কেউ যাতে অতিরিক্ত ঝুঁকি না নেন, সেদিকেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত প্রাণহানির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে আগুনে কতটি বসতঘর বা কী পরিমাণ সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা পরবর্তী পরিদর্শনের পর স্পষ্ট হতে পারে। একইভাবে অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণও তদন্ত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার কথা রয়েছে।

Tags :

Shourav Gurukul

Recent News