খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ই জুন ২০২৬, ১০:৩০ পিএম

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অনুষ্ঠিত অ্যাশেজ সিরিজে ১-৪ ব্যবধানে পরাজিত হওয়ার পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল। তবে সেই বিপর্যয় ও গ্লানি কাটিয়ে ঘরের মাঠ লর্ডসে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্ট ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ১১৫ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ইংলিশরা। এই জয়ের মাধ্যমে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্বাগতিক দল। বৃষ্টিবিঘ্নিত এই টেস্ট ম্যাচটি ছিল বেশ দ্রুতগতির এবং মাঠের লড়াইয়ে বোলারদের আধিপত্য ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট। পুরো ম্যাচটি মাত্র ১৬৬ ওভার স্থায়ী হয়েছিল, যা টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সংক্ষিপ্ততম ম্যাচগুলোর একটি হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।
Table of Contents
লর্ডস টেস্টের প্রথম ইনিংসে টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে নিউজিল্যান্ডের বোলারদের তোপের মুখে পড়ে স্বাগতিক ইংল্যান্ড। নিউজিল্যান্ডের নিয়ন্ত্রিত লাইনে করা বোলিংয়ের সামনে ইংলিশ ব্যাটাররা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারেননি। ফলে স্বাগতিক দল তাদের প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৪০ রানে অল-আউট হয়ে যায়। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৬ রান করেন মিডল অর্ডার ব্যাটার হ্যারি ব্রুক। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে দুর্দান্ত বোলিং পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে ৬২ রান খরচায় ৫টি উইকেট শিকার করেন পেসার কাইল জেমিসন।
নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং করতে নেমে নিউজিল্যান্ড দলও চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়। দীর্ঘদিন পর ইংল্যান্ডের টেস্ট দলে ফিরে ওলি রবিনসন কিউই ব্যাটারদের ওপর সম্পূর্ণ চেপে বসেন। তার নিয়ন্ত্রিত ও ধারালো বোলিংয়ের সামনে নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংস মাত্র ১১৩ রানে গুটিয়ে যায়। ওলি রবিনসন ৩৯ রান দিয়ে ৫টি উইকেট লাভ করেন। ফলে প্রথম ইনিংস শেষে ইংল্যান্ড দল ২৭ রানের একটি অতিমূল্যবান লিড অর্জন করতে সক্ষম হয়, যা পরবর্তীতে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে।
প্রথম ইনিংসের ২৭ রানে এগিয়ে থেকে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং শুরু করে ইংল্যান্ড। এমিলিও গে-এর ৫৭ রানের দায়িত্বশীল ইনিংসের ওপর ভর করে স্বাগতিকরা দ্বিতীয় ইনিংসে ২২৬ রান সংগ্রহ করতে সমর্থ হয়। নিউজিল্যান্ডের নতুন পেসার নাথান স্মিথ দুর্দান্ত বোলিং করে ৭০ রানের বিনিময়ে ৬টি উইকেট তুলে নেন। দুই ইনিংস মিলিয়ে নিউজিল্যান্ডের সামনে জয়ের জন্য চূড়ান্ত লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়ায় ২৫৪ রান।
২৫৪ রানের জবাবে জয়ের লক্ষ্যে চতুর্থ দিনে ব্যাট করতে নামে নিউজিল্যান্ড। তবে ইংল্যান্ডের পেস আক্রমণের মুখে তারা কোনো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি। মাত্র ১৩৮ রানেই অল-আউট হয়ে যায় সফরকারী নিউজিল্যান্ড। এবার বল হাতে হন্তারকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন ইংল্যান্ডের পেস তারকা গাস অ্যাটকিনসন। তিনি মাত্র ৩০ রান খরচ করে ৫টি উইকেট তুলে নিয়ে কিউইদের ব্যাটিং লাইনআপ সম্পূর্ণ ধসিয়ে দেন। ফলশ্রুতিতে ইংল্যান্ড ১১৫ রানের একটি বড় ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে।
এই টেস্ট ম্যাচটি বোলারদের, বিশেষ করে পেসারদের সম্পূর্ণ আধিপত্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ম্যাচের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, এই খেলার সবকটি উইকেটই পেস বোলাররা লুফে নিয়েছেন। পুরো ম্যাচে কোনো স্পিনারকে দিয়ে একটি বলও করাননি দুই দলের অধিনায়ক, যা আধুনিক টেস্ট ক্রিকেটে বেশ বিরল ঘটনা। দীর্ঘদিন পর দলে ফিরে ওলি রবিনসন প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেটসহ ম্যাচে মোট ৭টি উইকেট তুলে নিয়ে নিজের কার্যকারিতা ও ফর্মের প্রমাণ দিয়েছেন।
ম্যাচের সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড:
ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস: ১৪০/১০ (হ্যারি ব্রুক ৫৬; কাইল জেমিসন ৫/৬২)
নিউজিল্যান্ড ১ম ইনিংস: ১১৩/১০ (ওলি রবিনসন ৫/৩৯)
ইংল্যান্ড ২য় ইনিংস: ২২৬/১০ (এমিলিও গে ৫৭; নাথান স্মিথ ৬/৭০)
নিউজিল্যান্ড ২য় ইনিংস: ১৩৮/১০ (গাস অ্যাটকিনসন ৫/৩০)
ফলাফল: ইংল্যান্ড ১১৫ রানে জয়ী।
এই স্মরণীয় জয়ের মাধ্যমে ইংল্যান্ড দল কেবল তিন ম্যাচের সিরিজে সুবিধাজনক অবস্থানেই যায়নি, বরং অ্যাশেজ সিরিজের ব্যর্থতা ভুলে নতুনভাবে পথচলার আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে। সমালোচকদের উপযুক্ত জবাব দিয়ে দলের খেলোয়াড়রা নিজেদের মানসিক শক্তির পরিচয় দিয়েছেন। সিরিজের বাকি দুটি ম্যাচেও এই জয়ের ধারা বজায় রেখে ট্রফি নিজেদের করে রাখাই এখন স্বাগতিক ইংল্যান্ডের প্রধান লক্ষ্য। অন্যদিকে, প্রথম ম্যাচে পরাজিত হলেও সিরিজে সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে লড়বে সফরকারী নিউজিল্যান্ড।
মন্তব্য