খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ই জুলাই ২০২৬, ৪:৪২ পিএম

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাইককান্দি এলাকায় শ্বশুরবাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে বিএম মাহমুদুল ইসলাম (৩৮) নামে এক পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ও শ্বশুরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তবে তাঁদের সঙ্গে মাহমুদুল ইসলামের মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে পাইককান্দি এলাকায় শ্বশুরবাড়ির সংলগ্ন একটি পুকুরে মাহমুদুল ইসলামের মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। বিষয়টি দ্রুত আশপাশে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে। প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহত বিএম মাহমুদুল ইসলাম গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বিজয়পাশা গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম হায়দার আলী ভূঁইয়া। তিনি বাংলাদেশ পুলিশের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) ৬ ব্যাটালিয়নে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কর্মসূত্রে তাঁকে গোপালগঞ্জের বাইরে দায়িত্ব পালন করতে হলেও পারিবারিক কারণে তিনি শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মাহমুদুল ইসলামের মরদেহ পুকুরে কীভাবে গেল, তিনি কখন সেখানে পৌঁছান এবং তাঁর মৃত্যুর আগে কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল কি না—এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি তাঁর মৃত্যুর আগে ও পরে গতিবিধি, পারিবারিক পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যও তদন্তের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী ও শ্বশুরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য পাওয়া যায় কি না, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। তবে তাঁদের আটক করা হয়েছে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য; এ পর্যায়ে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্তের ফলাফল এবং প্রাসঙ্গিক আলামতের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পাশাপাশি পুলিশ মরদেহ উদ্ধারের প্রক্রিয়া, আশপাশের পরিবেশ এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য আলামত পর্যবেক্ষণ করছে। মৃত্যুর আগে মাহমুদুল ইসলামের সঙ্গে কারও যোগাযোগ হয়েছিল কি না, তিনি কোথায় ছিলেন এবং কী পরিস্থিতিতে পুকুরের কাছে গেলেন—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্তকারী দল। মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হলে মাহমুদুল ইসলামের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা পাওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে ঘটনাটি স্বাভাবিক মৃত্যু, দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট—তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণের চেষ্টা চলছে।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া তথ্য, পারিপার্শ্বিক আলামত এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য মিলিয়ে মৃত্যুর ধরন সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করা হবে। প্রয়োজন হলে তদন্তের স্বার্থে আরও ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
একজন কর্মরত পুলিশ সদস্যের মরদেহ শ্বশুরবাড়ির পাশের পুকুর থেকে উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে মৃত্যুর কারণ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো বা কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা সমীচীন নয়। পুলিশও জানিয়েছে, সব সম্ভাবনা বিবেচনায় রেখে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই মাহমুদুল ইসলামের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করা হবে।
মন্তব্য