এশিয়ান গেমসে ক্রিকেট থেকে পদক জয়ের আশা শেষ হয়ে গেল বাংলাদেশের। ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কার কাছে ৬৩ রানে হেরে গেছে বাংলাদেশ। অথচ ম্যাচের শুরুতে শ্রীলঙ্কাকে মাত্র ২১ রানে চার উইকেট হারাতে বাধ্য করে নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত সেই সুবিধা ধরে রাখতে পারেনি দলটি।
এই হারের ফলে এবারের এশিয়ান গেমসে ক্রিকেট থেকে কোনো পদকই পেল না বাংলাদেশ। পুরুষ দলের আগে নারী দলও পদক জিততে পারেনি। ফলে ক্রিকেটে পদকহীন থাকার পাশাপাশি আসরে বাংলাদেশের একমাত্র পদক হয়ে থাকল উশুর ব্রোঞ্জ।
ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে টস হেরে প্রথমে বোলিংয়ে নামে বাংলাদেশ। শুরুটা ছিল দারুণ। তৃতীয় ওভারে মেহেদী হাসান পরপর দুটি উইকেট তুলে নেন। এরপর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হওয়া আলিস আল ইসলাম নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক উইকেটের দেখা পান। একই ওভারে রানআউট হন সোহান ডি লিভেইরা। ফলে ৩.৫ ওভার শেষে শ্রীলঙ্কার স্কোর দাঁড়ায় মাত্র ২১ রান, উইকেট পড়ে চারটি।
এমন অবস্থায় শ্রীলঙ্কার ইনিংস বড় সংগ্রহের দিকে যাবে, তা সহজে অনুমান করা যাচ্ছিল না। তবে আরাচাগে ও বান্দারা মিলে পরিস্থিতি সামাল দিতে শুরু করেন। দুজনের জুটি থেকে আসে ৪০ বলে ৩৩ রান। রিশাদ হোসেনের বলে সুইপ করতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন বান্দারা। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ২৪ বলে ১৮ রান।
১০ ওভার শেষে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ছিল ৫১ রান। অর্থাৎ প্রথম ১০ ওভারে রান তোলার গতি খুব বেশি ছিল না। বাংলাদেশের বোলারদের সামনে তখনও সুযোগ ছিল শ্রীলঙ্কাকে দেড়শ রানের নিচে আটকে রাখার।
কিন্তু শেষ ১০ ওভারে পুরো চিত্র বদলে যায়।
১৪তম ওভারে মোস্তাফিজুর রহমানের বলে শ্রীলঙ্কা তুলে নেয় ২৫ রান। ওই ওভারে নো বল ও ওয়াইডও ছিল। বাংলাদেশের একমাত্র পেসার হিসেবে মোস্তাফিজের ওপর তখন বড় দায়িত্ব ছিল। পাকিস্তানের বিপক্ষের আগের ম্যাচেও তাঁর একটি ওভারে ২৩ রান এসেছিল।
রিশাদ হোসেনও শুরুতে বেশ নিয়ন্ত্রিত ছিলেন। প্রথম দুই ওভারে মাত্র ৯ রান দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ দুই ওভারে তাঁর বোলিং থেকে শ্রীলঙ্কা নেয় ৩৭ রান। ফলে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের ওপর চাপ আরও বাড়তে থাকে।
এই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগান থারিন্দু রত্নায়েকে। মাত্র ২৭ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে শ্রীলঙ্কার রান দ্রুত বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত মোস্তাফিজুর রহমানের বলে রিশাদ হোসেনের হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে ৩২ বলে ৬৫ রান করেন রত্নায়েকে। তাঁর ইনিংসে ছিল সাতটি চার ও পাঁচটি ছক্কা।
শেষ পাঁচ ওভারে শ্রীলঙ্কা তোলে ৮৩ রান। ফলে ২০ ওভার শেষে ৯ উইকেট হারিয়ে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৬৫ রান।
বাংলাদেশের হয়ে মেহেদী হাসান ১৯ রান দিয়ে দুটি উইকেট নেন। সাইফ হাসানও দুটি উইকেট পান ২৮ রান খরচ করে। মোস্তাফিজুর রহমান নেন দুটি উইকেট, তবে তাঁর ৪ ওভারে আসে ৪৩ রান। রিশাদ হোসেন একটি উইকেট পেলেও ৪ ওভারে দেন ৪৬ রান।
জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৬৬ রান। কিন্তু রান তাড়ায় নেমেই ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়ে দল।
সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান তামিম ও লিটন দাস—তিনজনের কেউই রানের খাতা খুলতে পারেননি। ফলে শুরুতেই বাংলাদেশের টপ অর্ডার ভেঙে পড়ে। পাকিস্তানের বিপক্ষে ভালো ব্যাটিং করা তাওহিদ হৃদয়কে ঘিরে কিছুটা আশার জায়গা ছিল। কিন্তু তিনিও ৬ বলে ১১ রান করে ফিরে যান।
৪.২ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ২৩ রান, উইকেট চারটি। এত অল্প রানে চার উইকেট হারানোর পর ১৬৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এরপর আরও বড় ধাক্কা আসে পরপর দুই বলে। পারভেজ হোসেন ও মেহেদী হাসান দুজনেই উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। মেহেদী অবশ্য আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট ছিলেন না। তাঁর ধারণা ছিল, বল তাঁর ব্যাটে স্পর্শ করেনি। ওই সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৬৪ রান, উইকেট ছয়টি।
এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। ইয়াসির আলী ২১ রান করেন, পারভেজ হোসেনের ব্যাট থেকে আসে ২০। রিশাদ হোসেন করেন ১০ রান।
শেষ দিকে নাসুম আহমেদ কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ৯ নম্বরে নেমে ২৮ বলে ২৬ রান করেন তিনি। তাঁর এই ইনিংসের কারণে বাংলাদেশের পরাজয়ের ব্যবধান আরও বড় হয়নি। তবে প্রয়োজনীয় রান তোলার মতো কোনো জুটি গড়ে ওঠেনি।
শেষ পর্যন্ত ১৭.৩ ওভারে ১০২ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। ফলে শ্রীলঙ্কা জয় পায় ৬৩ রানে এবং ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করে।
শ্রীলঙ্কার হয়ে থুসারা, রত্নায়েকে, ভিয়াসকান্ত ও সাহান দুটি করে উইকেট নেন।
বাংলাদেশের জন্য ম্যাচটির হতাশার জায়গাটি আরও বড় হয়ে ওঠে প্রথম দিকের বোলিংয়ের কথা বিবেচনায় নিলে। মাত্র ২১ রানে চার উইকেট তুলে নেওয়ার পরও শ্রীলঙ্কাকে ১৬৫ পর্যন্ত যেতে দেওয়া হয়। বিশেষ করে শেষ পাঁচ ওভারে ৮৩ রান দেওয়াই ম্যাচের গতিপথ পাল্টে দেয়। এরপর রান তাড়ায় বাংলাদেশের প্রথম সারির ব্যাটাররা দ্রুত ফিরে যাওয়ায় ম্যাচে ফেরার সুযোগও তৈরি হয়নি।
ফলে এশিয়ান গেমসে ক্রিকেট থেকে পদক জয়ের সম্ভাবনা শেষ হলো পুরুষ দলেরও। নারী ও পুরুষ—দুই দলই এবার পদকের বাইরে থাকল। বাংলাদেশের হয়ে এবারের আসরে একমাত্র পদক এসেছে উশু থেকে, ব্রোঞ্জ।









