,

গাজা সিটিতে আবাসিক ভবনে হামলা, নিহত ৫

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার গাজা সিটির রেমাল এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চারজন নারী রয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ছয়জন আহত হয়েছেন বলে হাসপাতাল ও উদ্ধারকর্মীদের বরাতে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

শনিবার (৩ অক্টোবর) ভোরে রেমাল এলাকার আল-আসালা ভবনের একটি অ্যাপার্টমেন্ট লক্ষ্য করে ওই বিমান হামলা চালানো হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার আগে সেখানে কোনো ধরনের সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি।

আল জাজিরার খান ইউনিস প্রতিনিধি হানি আল-শায়ের জানান, গভীর রাতে স্থানীয় বাসিন্দারা যখন ঘুমিয়ে ছিলেন, তখন পরপর তিনটি বিমান হামলা চালানো হয়। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, প্রথমে যুদ্ধবিমানের তীব্র শব্দ শোনা যায়। এরপর একটি অ্যাপার্টমেন্ট লক্ষ্য করে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়।

হামলার তীব্রতায় ভবনের সংশ্লিষ্ট অ্যাপার্টমেন্টটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। নিচের কয়েকটি তলাতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। বিস্ফোরণের পর ভবনটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে ছুটে যান ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

এরপর ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে হতাহতদের উদ্ধারে অভিযান শুরু করেন উদ্ধারকর্মীরা। রাতের অন্ধকার, ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ কাঠামো এবং ঘটনাস্থলের পরিস্থিতির কারণে উদ্ধার তৎপরতা কঠিন হয়ে ওঠে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উদ্ধার অভিযান চলার সময়ও ওই এলাকার আকাশে ইসরায়েলি ড্রোন ও নিচু দিয়ে যুদ্ধবিমান উড়তে দেখা যায়।

হামলায় নিহত পাঁচজনের মধ্যে চারজন নারী বলে নিশ্চিত করেছে গাজার আল-শিফা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। নিহত নারীদের মধ্যে একজন বয়স্ক খ্রিষ্টান নারী এবং তাঁর মেয়ে রয়েছেন। আহত ছয়জনকে চিকিৎসার জন্য আল-শিফা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

রেমাল গাজা সিটির একটি ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা। দীর্ঘদিনের সংঘাত ও সামরিক অভিযানের কারণে গাজার বিভিন্ন এলাকা থেকে বাস্তুচ্যুত বহু মানুষ এই শহরের বিভিন্ন ভবন ও অস্থায়ী তাঁবুতে আশ্রয় নিয়েছেন। ফলে আবাসিক এলাকায় কোনো হামলা হলে বেসামরিক মানুষের হতাহত হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গাজায় আবাসিক ভবন, আশ্রয়কেন্দ্র ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় হামলা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার বিষয়টি সংঘাতের প্রতিটি পর্যায়েই গুরুত্বপূর্ণ বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবিক সংগঠনগুলো জোর দিয়ে আসছে।

রেমালের সর্বশেষ হামলায় নিহত ও আহত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো স্পষ্ট নয়। ধ্বংসস্তূপে আরও কেউ আটকা পড়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।