কুড়িগ্রাম জেলা জজ আদালতের আইনজীবী সহকারী (ল’ ক্লার্ক বা মুহুরি) সমিতির ত্রিবার্ষিক নির্বাচনে সভাপতি পদে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল বাতেন মুহুরি। নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে তাঁকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হলেও ভোটের ফলাফলে তাঁর প্যানেলই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) কুড়িগ্রাম জেলা জজ আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবী সহকারী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোটগ্রহণ শেষে একই রাতে ফলাফল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনে সভাপতি পদে আব্দুল বাতেন ২০৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফারুক আহমেদ পেয়েছেন ১৪০ ভোট। ফলে সভাপতি পদে বাতেনের জয়ের ব্যবধান দাঁড়ায় ৬৯ ভোট।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদেও বাতেন সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী আতিয়ার রহমান জয় পেয়েছেন। তিনি ১৭১ ভোট পান। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী সাইফুর রহমান পেয়েছেন ১০১ ভোট। অর্থাৎ সাধারণ সম্পাদক পদে বিজয়ী প্রার্থী ৭০ ভোটের ব্যবধানে জয় পান।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ১৪ সদস্যের কার্যনির্বাহী প্যানেলের মধ্যে আব্দুল বাতেন সমর্থিত প্যানেল থেকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ মোট আটজন নির্বাচিত হয়েছেন। এতে সমিতির নেতৃত্বে ওই প্যানেল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।
সমিতিতে মোট ভোটার ছিলেন ৩৬২ জন। তাঁদের মধ্যে ৩৫৮ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। অর্থাৎ ভোটারদের প্রায় সবাই নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।
তবে নির্বাচনের আগে আব্দুল বাতেনের গ্রেপ্তারকে ঘিরে বিষয়টি আলোচনায় আসে। কুড়িগ্রাম সদর থানা সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় আদালত প্রাঙ্গণ থেকেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। নির্বাচনের সময় তিনি কারাগারে থাকায় সরাসরি ভোটারদের সঙ্গে প্রচার বা যোগাযোগের সুযোগ পাননি।
আব্দুল বাতেন কুড়িগ্রাম জজ আদালতের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর আব্রাহাম লিংকনের আইনজীবী সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের বাসিন্দা। স্থানীয়ভাবে তিনি ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বেও রয়েছেন।
নির্বাচনের ফলাফল সম্পর্কে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কুড়িগ্রাম জেলা বারের সিনিয়র সহসভাপতি অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনের আগে একজন প্রার্থীকে গ্রেপ্তার করায় তিনি নির্বাচন কমিশনার হিসেবে মর্মাহত হয়েছেন। আব্দুল বাতেনকে কেন গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন বলেও জানান।
নজরুল ইসলামের ভাষ্য, গ্রেপ্তারের ঘটনাটি বাতেনের পক্ষে সহানুভূতির ভোট পাওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে বলে তিনি মনে করেন। তাঁর মতে, এর প্রভাব নির্বাচনের ফলাফলেও দেখা গেছে এবং বাতেন সমর্থিত প্যানেলের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য জয় পেয়েছেন।
একদিকে নির্বাচনের আগে একজন প্রার্থীর গ্রেপ্তার, অন্যদিকে ভোটের মাঠে তাঁর বড় ব্যবধানে জয়—দুই ঘটনাই এবারের কুড়িগ্রাম জেলা জজ আদালতের আইনজীবী সহকারী সমিতির নির্বাচনকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।









