,

হাসিনা-পুতিনের ২০ মিনিট ফোনালাপ, সঙ্গে ছিলেন অজিত ডোভাল

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যে ব্রিকস সম্মেলন চলাকালে প্রায় ২০ মিনিট ফোনে কথা হয়েছে—এমন একটি দাবি ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আরও আলোচনার জন্ম দিয়েছে ফোনালাপের সময় ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল একই কক্ষে উপস্থিত ছিলেন বলে প্রচারিত তথ্য।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই ফোনালাপের দাবি এখনো কোনো সরকারি সূত্রে নিশ্চিত হয়নি। ভারত সরকার, রাশিয়ার ক্রেমলিন কিংবা শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। কথোপকথনের কোনো সরকারি ট্রান্সক্রিপ্ট বা বিস্তারিত বিবরণও প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে প্রচারিত তথ্যকে আপাতত একটি দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম “The Hindustan Times”-এর ১৫ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনলাইন ও কূটনৈতিক মহলে এমন দাবি ছড়িয়ে পড়েছে যে নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের সময় পুতিন শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। প্রতিবেদনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে কোনো সরকারি নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি নিয়ে আগ্রহের অন্যতম কারণ শেখ হাসিনার বর্তমান অবস্থান এবং তাঁর সরকারের সময়ে রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। বিশেষ করে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দুই দেশের সহযোগিতার একটি বড় উদাহরণ। প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্পে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি সংস্থা রোসাটম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

রূপপুর প্রকল্পের অর্থ পরিশোধ নিয়েও অতীতে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে সরাসরি অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে নানা বাধা দেখা দিলে বিকল্প ব্যবস্থায় অর্থ পরিশোধের বিষয়টি আলোচনায় আসে। এর মধ্যে ভারতীয় মুদ্রায় অর্থ পরিশোধের সম্ভাবনাও উঠে এসেছিল। ফলে বাংলাদেশ, ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে যেকোনো নতুন যোগাযোগ স্বাভাবিকভাবেই কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের নজর কাড়তে পারে।

পুতিনের নয়াদিল্লি সফরও এই প্রেক্ষাপটকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। ২০২৬ সালের ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে রাশিয়া ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিষয়ে আলোচনা হয়। সেই সময় পুতিন-হাসিনা ফোনালাপের দাবি সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

এদিকে ব্রিকস সম্মেলনকে ঘিরে বাংলাদেশের অবস্থানও আলোচনায় ছিল। ঢাকা জানিয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হলেও সেটি দেওয়া হয়েছিল বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর ভূমিকাকে কেন্দ্র করে। বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত সম্মেলনে অংশ নেয়নি। সম্মেলনের পর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের বা ‘রিসেট’ করার আগ্রহের কথাও জানানো হয়।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের সঙ্গে একটি ‘ভালো কাজের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক’ গড়ে তোলার কথা বলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পারস্পরিক স্বার্থ এবং সরাসরি দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ভিত্তিতে সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে নেওয়ার বিষয়ে ঢাকা আগ্রহী।

এই ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে পুতিন-হাসিনা ফোনালাপের দাবিকে সরাসরি যুক্ত করার মতো কোনো প্রমাণ অবশ্য এখনো সামনে আসেনি। ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের বার্তা এবং একই সময়ে পুতিন-হাসিনা কথোপকথনের দাবি—ঘটনাগুলো কাছাকাছি সময়ে সামনে এলেও এগুলোর মধ্যে কোনো প্রত্যক্ষ যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়।

বাংলাদেশের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্কের ক্ষেত্রেও রূপপুর প্রকল্পের গুরুত্ব আলাদা করে দেখা হয়। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পারমাণবিক প্রযুক্তির পাশাপাশি প্রকল্পটি দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। এ কারণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্টের কথিত যোগাযোগের খবর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি মনোযোগ তৈরি করেছে।

তবে ফোনালাপটি সত্যিই হয়েছিল কি না, হলে কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং অজিত ডোভাল সেই সময় উপস্থিত ছিলেন কি না—এই তিনটি বিষয়েই এখন পর্যন্ত স্বাধীন ও সরকারি নিশ্চিত তথ্য নেই। কোনো সরকারি ট্রান্সক্রিপ্ট বা আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত তাই প্রচারিত ২০ মিনিটের ফোনালাপের দাবিকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা যাচ্ছে না।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য সামনে আসে কি না। সেই বক্তব্য বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রকাশিত হলে পুতিন-হাসিনা কথোপকথনের দাবি এবং এর সম্ভাব্য কূটনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে আরও নির্ভরযোগ্যভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।