ভারতের ঘরোয়া ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (আইএসএল) আগামী মৌসুমে মাঠে গড়াতে যাচ্ছে, তবে সম্প্রচার ও আয় নিয়ে তীব্র ধাক্কা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি আইএসএলের ম্যাচ সম্প্রচারের জন্য ফ্যানকোড চুক্তি করেছে, যা আয় ক্ষেত্রে আগের মৌসুমের তুলনায় এক বিশাল ধস নির্দেশ করছে।
আগামী মৌসুমের জন্য ফ্যানকোড প্রতি ম্যাচ সম্প্রচারের জন্য ৯.৫ লাখ রুপি দিতে সম্মত হয়েছে, যা মোট ৮.৬২ কোটি রূপি। তুলনামূলকভাবে, শেষ ১০ মৌসুমে আইএসএল ম্যাচ সম্প্রচারের জন্য অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন (AIFF) প্রতি মৌসুমে প্রায় ২৭৫ কোটি রুপি আয় করত। অর্থাৎ, এবার ফেডারেশনের আয় কমেছে ২৬৬.৩৮ কোটি রুপি, যা প্রায় ৯৭ শতাংশ হ্রাস।
আগের মৌসুমগুলোতে আইএসএলে মোট ১৬৩টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হত এবং প্রতি ম্যাচ থেকে ফেডারেশন ১.৬৮ কোটি রুপি আয় করত। নতুন চুক্তিতে ম্যাচ প্রতি আয় ৯৫ শতাংশ কমে মাত্র ৯.৫ লাখ রুপি হয়ে গেছে।
আইএসএলের সম্প্রচার আয় বনাম আগের মৌসুম:
| বিষয় | আগের মৌসুম | নতুন মৌসুম | হ্রাস শতাংশ |
|---|---|---|---|
| মোট আয় (কোটি রুপি) | ২৭৫ | ৮.৬২ | ৯৭% |
| প্রতি ম্যাচ আয় (লাখ) | ১৬৮ | ৯.৫ | ৯৫% |
| মোট ম্যাচ সংখ্যা | ১৬৩ | ৯১ | – |
বিশ্লেষকরা বলছেন, আইএসএলের এই আয় ধস ভারতের অন্যান্য জনপ্রিয় খেলার, যেমন ক্রিকেটের তুলনায় এক বিশাল পার্থক্য তৈরি করছে। উদাহরণস্বরূপ, ভারতীয় প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ক্রিকেটের একটি ম্যাচের মূল্য আইএসএলের ম্যাচের থেকে প্রায় ১২৪২ গুণ বেশি। আইপিএলের সম্প্রচার থেকে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI) যা আয় করে, তার তুলনায় আইএসএল ফেডারেশন মাত্র ৫৬১৩ গুণ কম আয় করবে।
ফেডারেশন সূত্রে জানা গেছে, নতুন মৌসুমে আয় কম হওয়ায় ক্লাবগুলোর বাজেটেও সরাসরি প্রভাব পড়বে। খেলোয়াড়দের বেতন, প্রচারাভিযান, প্রশিক্ষণ এবং অন্যান্য খরচ সামলাতে ফেডারেশনকে নতুন আয়ের উৎস খুঁজতে হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক স্পন্সর এবং স্ট্রিমিং সেবার চুক্তি না বাড়ালে আগামী কয়েক বছরে আইএসএলের আর্থিক অবস্থা আরও সংকটাপন্ন হতে পারে।
এদিকে, ফুটবলপ্রেমীরা আশা করছেন, খেলোয়াড় এবং ক্লাব মান ধরে রাখার পাশাপাশি দর্শকসংখ্যা বৃদ্ধির মাধ্যমে আয় পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি স্পষ্টভাবে নির্দেশ করছে, ভারতীয় ঘরোয়া ফুটবলকে ক্রিকেটের তুলনায় অর্থনৈতিকভাবে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে।
