লুৎফর রহমান খান আজাদ একজন বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী। তিনি টাঙ্গাইল-৩ আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় মন্ত্রিসভায় বিভিন্ন সময় শ্রম ও কর্মসংস্থান, বস্ত্র ও পাট এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমান তিনি বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
Table of Contents
লুৎফর রহমান খান আজাদ । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

প্রারম্ভিক জীবন
আজাদ ১৯৫৭ সালের ১ জানুয়ারি টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম হাবিবর রহমান ও মাতার নাম সুফিয়া খানম। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত লেখাপড়া করে তিনি রাজীতিতে প্রবেশ করেন।
রাজনৈতিক জীবন
আজাদ ঘাটাইল উপজেলা নিয়ে গঠিত টাঙ্গাইল-৩ নির্বাচনী আসন থেকে ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এ তিনটি নির্বাচনে তিনি তার চাচাত ভাই ও আওয়ামী লীগের শামসুর রহমান খান শাহজাহানের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে যথাক্রমে ৭১,১৫৭, ৭৩,৮১৫ ও ৯৪,৪২০ ভোট পান ও বিজয়ী হন।
২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী মতিউড় রহমানের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে ৮৩,০৭৬ ভোট লাভ করেন এবং পরাজিত হন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে একই আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মনোনয়ন লাভ করেন।
আজাদ, খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় মন্ত্রিসভায় ২০০২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০০৩ সালের ২২ মে পর্যন্ত শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, ২২ মে ২০০৩ থেকে ৬ মে ২০০৪ পর্যন্ত বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং ২০০৬ সালের ৯ জুলাই থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সংসদ সদস্য
সংসদ সদস্য জনপ্রতিনিধি হিসেবে পার্লামেন্ট বা জাতীয় সংসদে সরকার কিংবা বিরোধীদলীয় সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণ করে থাকেন। এর ইংরেজি প্রতিরূপ হচ্ছে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট’ বা ‘এমপি’ এবং বাংলায় ‘সংসদ সদস্য’ কিংবা ‘সাংসদ’। এছাড়া, ফরাসী ভাষায় সংসদ সদস্যকে ‘ডেপুটি’ নামে অভিহিত করা হয়।
পরিচিতি
সংসদীয় গণতন্ত্রে একজন সংসদ সদস্য আইন-প্রণয়ন বিশেষতঃ রাষ্ট্রীয় আইন ও নাগরিক অধিকার প্রণয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সাধারণ অর্থে নির্দিষ্ট সংসদ কিংবা জাতীয় সংসদের সদস্যই এমপি বা সংসদ সদস্য হিসেবে আখ্যায়িত হন।
বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে দ্বি-স্তরবিশিষ্ট সংসদীয় গণতন্ত্র রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে – উচ্চ কক্ষ এবং নিম্ন কক্ষ। সেক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি হিসেবে ‘সংসদ সদস্য’ পদটি নিম্নকক্ষের জন্য প্রযোজ্য। সচরাচর জনপ্রতিনিধি হিসেবে সংসদ সদস্য পদটি উচ্চ কক্ষে ভিন্ন পদে উপস্থাপন ও চিহ্নিত করা হয়। উচ্চ কক্ষ হিসেবে সিনেটে সংসদ সদস্য তখন তিনি ‘সিনেটর’ পদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।

অবস্থান
সংসদ সদস্য হিসেবে ব্যক্তিকে প্রাথমিকভাবে দলের সদস্যরূপে তাঁর অবস্থানকে নিশ্চিত করতে হয়। পরবর্তীতে দলীয় সভায় মনোনয়নের মাধ্যমে সরাসরি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও জনমতের যথার্থ সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিফলনে তিনি এমপি হিসেবে নির্বাচিত হন।
কখনোবা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর অভাবে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে থাকেন। সাধারণতঃ সংসদ সদস্য কোন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সদস্য হয়ে থাকেন। দলীয়ভাবে মনোনয়নলাভে ব্যর্থ হলে কিংবা দলীয় সম্পৃক্ততা না থাকলেও ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’ হিসেবে অনেকে নির্বাচিত কিংবা মনোনীত সংসদ সদস্য হন।
আরও দেখুনঃ