মোঃ জাহিদ আহসান রাসেল (জন্ম: ১ জানুয়ারি ১৯৭৮) বাংলাদেশের একজন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ এবং গাজীপুর-২ (সদর-টঙ্গী) আসনের চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য। তিনি বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি মূলত তাঁর পিতা, প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা ও সংসদ সদস্য শহীদ আহসানউল্লাহ মাস্টার-এর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী।
Table of Contents
জন্ম ও শিক্ষা
জাহিদ আহসান রাসেল ১৯৭৮ সালে গাজীপুর মহানগরের টঙ্গীর নোয়াগাঁও এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক বাড়ি হায়দরাবাদ গ্রামে। ২০০৪ সালে তাঁর পিতা আহসানউল্লাহ মাস্টার আততায়ীর গুলিতে নিহত হওয়ার পর জাহিদ আহসান রাসেল অত্যন্ত অল্প বয়সে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। তিনি সামাজিক বিজ্ঞান (BSS) ডিগ্রি অর্জনের পর আইনের ওপর উচ্চতর পড়াশোনা করেছেন।
রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ও মন্ত্রিত্ব
বাবার মৃত্যুর পর অনুষ্ঠিত ২০০৪ সালের উপ-নির্বাচনে জয়ের মাধ্যমে তাঁর সংসদীয় যাত্রা শুরু হয়।
- টানা জয়: ২০০৮ (নবম), ২০১৪ (দশম), ২০১৮ (একাদশ) এবং ২০২৪ (দ্বাদশ) জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি টানা জয়লাভ করেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি সারাদেশে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন।
- প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব: ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর ২০১৯ সালে শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভায় তিনি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হন। তাঁর মেয়াদে বাংলাদেশের ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়ন এবং তৃণমূল পর্যায়ে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণে ব্যাপক অগ্রগতি সাধিত হয়।
উন্নয়নমূলক অবদান
গাজীপুর ও টঙ্গী এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নে তাঁর ভূমিকা অনস্বীকার্য।
- গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন: গাজীপুরকে সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তর এবং মহানগরের রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে তিনি বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন।
- শিক্ষা ও স্বাস্থ্য: শহীদ আহসানউল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ এবং টঙ্গী সরকারি কলেজের অবকাঠামো উন্নয়নে তিনি কাজ করেছেন।
সাম্প্রতিক পরিস্থিতি (২০২৪-২০২৬)
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জাহিদ আহসান রাসেল রাজনৈতিক ও আইনি সংকটের মুখে পড়েছেন।
- মামলা ও অভিযোগ: ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে গাজীপুর ও ঢাকায় বেশ কিছু হত্যা ও দুর্নীতির মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিশেষ করে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সহিংসতায় মদদ দেওয়ার অভিযোগে তাঁকে আসামি করা হয়েছে।
- সম্পদ জব্দ: দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত তাঁর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক এবং ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
- বর্তমান অবস্থা: ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন অথবা আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বা তাঁর দল অংশগ্রহণ করেনি।
একনজরে জাহিদ আহসান রাসেল
| বিষয় | তথ্য |
| পিতা | শহীদ আহসানউল্লাহ মাস্টার |
| রাজনৈতিক দল | বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ |
| নির্বাচিত আসন | গাজীপুর-২ (টঙ্গী-সদর) |
| সংসদীয় মেয়াদ | ২০০৪ (উপ-নির্বাচন), ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ |
| রাষ্ট্রীয় পদ | সাবেক প্রতিমন্ত্রী (যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়) |
| বর্তমান স্থিতি | আইনি প্রক্রিয়ার আওতাধীন |