তেহরানের অব্যবহৃত কার্ড নিয়ে গালিবাফের অর্থনৈতিক মন্তব্য প্রসঙ্গে

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং কৌশলগত অবস্থান নিয়ে নতুন বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেছেন। তিনি দাবি করেন, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে যে ধারণা প্রচলিত রয়েছে, তা বাস্তবতার পূর্ণ প্রতিফলন নয়। তার মতে, তেহরানের হাতে এখনো এমন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বিকল্প বা ‘কার্ড’ রয়েছে, যা এখনো পুরোপুরি ব্যবহার করা হয়নি।

রোববার রাতে ইরানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই বক্তব্য উপস্থাপন করেন। সেখানে তিনি দুই দেশের অর্থনৈতিক কৌশলকে একটি সমীকরণের মতো করে ব্যাখ্যা করেন, যেখানে ইরানকে সরবরাহনির্ভর এবং যুক্তরাষ্ট্রকে চাহিদানির্ভর কাঠামোর ওপর নির্ভরশীল হিসেবে তুলে ধরা হয়।

গালিবাফের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরানের প্রধান শক্তির ভিত্তি হলো বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক পথসমূহ। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালি, বাব এল-মান্দেব প্রণালি এবং তেল পরিবহন ব্যবস্থার পাইপলাইন নেটওয়ার্ক উল্লেখযোগ্য। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল নির্ভর করছে চাহিদা ব্যবস্থাপনা, কৌশলগত মজুত থেকে তেল বাজারে সরবরাহ, চাহিদা নিয়ন্ত্রণ এবং মূল্য সমন্বয়ের মতো পদক্ষেপের ওপর।

তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে তাদের অনেক অর্থনৈতিক কৌশল আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে প্রয়োগ করেছে। তবে ইরানের ক্ষেত্রে এখনো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প অপ্রয়োগিত রয়েছে। বিশেষ করে বাব এল-মান্দেব প্রণালি এবং কিছু পাইপলাইন-সম্পর্কিত কৌশল এখনো সক্রিয় করা হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের হাতে থাকা কৌশলগত সুবিধাগুলো নিয়ে প্রচার করলেও, বাস্তবে সরবরাহ ও চাহিদার এই কাঠামোগত ভারসাম্য ভবিষ্যতে পরিবর্তিত হতে পারে।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি পরিস্থিতির একটি দিক তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, গ্রীষ্মকালীন সময়ে দেশটিতে জ্বালানির চাহিদা সাধারণত বৃদ্ধি পায়, যা তাদের বাজার ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে।

নিচের টেবিলে গালিবাফের বক্তব্যে উল্লেখিত দুই দেশের কৌশলগত অবস্থান সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—

বিষয়ইরানের কৌশলযুক্তরাষ্ট্রের কৌশল
অর্থনৈতিক ভিত্তিসরবরাহনির্ভর ব্যবস্থাচাহিদানির্ভর ব্যবস্থা
গুরুত্বপূর্ণ পথহরমুজ প্রণালি, বাব এল-মান্দেব প্রণালিবৈশ্বিক বাজার নিয়ন্ত্রণ কাঠামো
জ্বালানি কৌশলপাইপলাইন ও সরবরাহ পথ নিয়ন্ত্রণের সম্ভাবনাকৌশলগত মজুত থেকে তেল সরবরাহ
বাজার নিয়ন্ত্রণআংশিকভাবে ব্যবহৃত সক্ষমতাচাহিদা নিয়ন্ত্রণ ও মূল্য সমন্বয়
অতিরিক্ত দিককিছু গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প এখনো অপ্রয়োগিতমৌসুমি চাহিদা বৃদ্ধি ব্যবস্থাপনা

এই বিশ্লেষণের মাধ্যমে গালিবাফ মূলত দুই দেশের অর্থনৈতিক কৌশলগত অবস্থান এবং সম্ভাব্য প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রগুলোকে তুলনামূলকভাবে তুলে ধরেছেন। তিনি ইঙ্গিত করেছেন, ভবিষ্যতে বৈশ্বিক জ্বালানি ও অর্থনৈতিক ভারসাম্যে এই কৌশলগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।