জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ই জুলাই ২০২৬, ৫:৩৪ পিএম

রাজবাড়ী ও ফরিদপুরে পৃথক মাদকবিরোধী অভিযানে ৯০৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারদের মধ্যে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় একজন এবং ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় এক দম্পতি রয়েছেন। দুটি ঘটনায়ই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট পুলিশ।
রাজবাড়ীর পাংশায় ৮০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হয়েছেন মো. ফজলুল হক। তিনি পাংশা উপজেলার যশাই ইউনিয়নের বাশগ্রাম এলাকার মৃত আজিজ মুন্সির ছেলে।
জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার (২৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাশগ্রাম এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ডিবির একটি দল। অভিযানের সময় ফজলুল হকের নিজ বসতবাড়ির শয়নকক্ষে থাকা ড্রেসিং টেবিলের ওপরের একটি ড্রয়ার থেকে ৮০০ পিস অবৈধ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সোমবার (২৭ জুলাই) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাজবাড়ী জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মফিজুল ইসলাম। তিনি জানান, এ ঘটনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক মো. ওয়াহিদুল হাসান বাদী হয়ে পাংশা মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছেন।
অন্যদিকে, একই দিনে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় ১০৩ পিস ইয়াবাসহ এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে মধুখালী থানা পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলেন উপজেলার আড়পাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম আড়পাড়া গ্রামের তোরাপ মোল্লার ছেলে বাকেল মোল্লা ওরফে বাপ্পি (৩৫) এবং তার স্ত্রী নুরজাহান আক্তার উর্মি (২৭)। উর্মি মৃত আব্দুল আজিজ মোল্লার মেয়ে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার বিকেল ৪টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পশ্চিম আড়পাড়া এলাকায় ওই দম্পতির বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। পুলিশ দাবি করেছে, অভিযানের সময় মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত অবস্থায় তাদের আটক করা হয়। পরে তাদের কাছ থেকে ১০৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
মধুখালী থানার উপপরিদর্শক মো. মাসুদ হোসেন জানান, তার নেতৃত্বে সহকারী উপপরিদর্শক আশরাফুল আলম, সহকারী উপপরিদর্শক প্রমথ শিকদার, সহকারী উপপরিদর্শক শিমুল শিকদার, নারী কনস্টেবল রুমা আক্তারসহ পুলিশের একটি দল ওই অভিযান পরিচালনা করে।
মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুকদেব রায় জানান, বাকেল মোল্লা ওরফে বাপ্পির বিরুদ্ধে মাদক-সংক্রান্ত প্রায় এক ডজন মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া স্বামী-স্ত্রীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। সোমবার সকালে তাদের ফরিদপুরের আদালতে পাঠানো হয়।
দুটি ঘটনায় পুলিশ মোট ৯০৩ পিস ইয়াবা জব্দ করেছে। রাজবাড়ীর ঘটনায় উদ্ধার করা হয়েছে ৮০০ পিস এবং ফরিদপুরের ঘটনায় ১০৩ পিস। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে এসব অভিযান পরিচালনা করছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
মন্তব্য